
রাজধানীতে আয়োজিত এক নির্দেশনামূলক সভায় স্কুল ফিডিং বা মিড-ডে মিল কার্যক্রমে শিশুদের জন্য সরবরাহ করা খাদ্যের মান ও পুষ্টিগুণ নিশ্চিত করতে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেছেন, শিশুদের পুষ্টি ও ভবিষ্যৎ সুরক্ষার প্রশ্নে কোনো ধরনের গাফিলতি, অনিয়ম বা নিম্নমানের খাদ্য সরবরাহ বরদাস্ত করা হবে না। এ ক্ষেত্রে সরকার ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতি অনুসরণ করবে।
রোববার রাজধানীর প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে আয়োজিত স্কুল ফিডিং কর্মসূচি–সংশ্লিষ্ট মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। সভায় সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান, প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং মাঠপর্যায়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা অংশ নেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, এটি কোনো সাধারণ প্রশাসনিক সভা নয়; বরং দেশের শিশুদের পুষ্টি, স্বাস্থ্য ও ভবিষ্যতের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি। সরকারি কর্মকর্তা থেকে শুরু করে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান—সবার সর্বোচ্চ দায়িত্বশীলতা, সততা ও জবাবদিহির মধ্য দিয়ে কাজ করতে হবে।
তিনি জানান, বর্তমানে দেশের ১৫১টি উপজেলায় প্রায় সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে স্কুল ফিডিং কর্মসূচি বাস্তবায়িত হচ্ছে। এত বড় জনকল্যাণমূলক প্রকল্পে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ না হলে তা সরকার ও সংশ্লিষ্ট সবার জন্য বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, বর্তমান সরকার ব্যবসা ও বিনিয়োগবান্ধব হলেও শিশুদের খাদ্যের মানের সঙ্গে কোনো ধরনের আপস করার সুযোগ নেই। যারা নির্ধারিত শর্ত ও মান বজায় রেখে দায়িত্ব পালন করতে ব্যর্থ হবে, ভবিষ্যতে তারা এ কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারবে না বলেও কঠোর সতর্কবার্তা দেন তিনি।
কর্মসূচিকে আরও স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও কার্যকর করতে সভায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, খাদ্য কোথা থেকে সংগ্রহ করা হচ্ছে, কীভাবে প্রক্রিয়াজাত হচ্ছে এবং কার মাধ্যমে বিদ্যালয়ে পৌঁছাচ্ছে—এসব তথ্যের পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল রেকর্ড সরকারের কাছে সংরক্ষিত থাকতে হবে। একই সঙ্গে খাদ্যের গুণগত মান ও পুষ্টিগুণ নিশ্চিত করতে বিশেষায়িত টেকনিশিয়ান নিয়োগেরও নির্দেশ দেন তিনি।
স্থানীয় উৎপাদনকে উৎসাহিত করতে মাঠপর্যায় থেকেই খাদ্য সংগ্রহ ও সরবরাহ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রতিমন্ত্রী। পাশাপাশি প্রতিদিন নির্ধারিত সময়ে বিদ্যালয়ে খাদ্য পৌঁছানো এবং নিয়মিত মান নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম জোরদারেরও নির্দেশ দেওয়া হয় সভায়।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, সরকারের মূল লক্ষ্য হচ্ছে শিশুদের জন্য নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করা। এ লক্ষ্যে বাস্তবসম্মত সব ধরনের সহযোগিতা সরকার দেবে। তবে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদেরও নিজেদের দায়িত্ব ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি এই কার্যক্রমকে একটি ‘পাইলট প্রকল্প’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, বর্তমানে মাঠপর্যায়ে যেসব সমস্যা ও সীমাবদ্ধতা চিহ্নিত হচ্ছে, সেগুলো সমাধান করে ভবিষ্যতে আরও বৃহৎ পরিসরে সারা দেশে স্কুল ফিডিং কর্মসূচি সম্প্রসারণ করা হবে।
সভায় অংশ নেওয়া সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়ন–সংক্রান্ত বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেন। এ সময় প্রতিমন্ত্রী শিক্ষক, প্রধান শিক্ষক এবং স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতা আরও জোরদারের আশ্বাস দেন।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাখাওয়াৎ হোসেন–এর সভাপতিত্বে সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী, প্রকল্প পরিচালক, উপপরিচালক, জেলা ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারেরা।