
জাতীয় নাগরিক পার্টি–এর দক্ষিণাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ অভিযোগ করেছেন, বর্তমান বিএনপি সরকার বিগত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকারের মতোই পুলিশ প্রশাসন ও বিচার বিভাগকে দলীয়করণের পথে নিয়ে যাচ্ছে। তাঁর দাবি, পুলিশকে দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করা হচ্ছে এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন করা হয়েছে।
আজ সোমবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে ঝিনাইদহ শহরের পায়রা চত্বরে জেলা এনসিপি আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ করেন। ২২ মে এনসিপির নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী–র ওপর ডিম নিক্ষেপের ঘটনা, ছাত্রদলের মামলা এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, গত কয়েক দিনে পুলিশ ও আইন বিভাগের কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ করে তাঁদের মনে প্রশ্ন জেগেছে, জুলাই অভ্যুত্থানের পর আদৌ কোনো পরিবর্তন এসেছে কি না। তিনি বলেন, তাঁরা প্রত্যাশা করেছিলেন দলনিরপেক্ষ ও আইনানুগ একটি পুলিশ বাহিনী গড়ে উঠবে। কিন্তু বাস্তবে পুলিশ সদস্যদের বক্তব্যে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের প্রতি আনুগত্যের প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে।
তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় যেভাবে পুলিশ স্থানীয় পর্যায়ে সরকারদলীয় সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে ‘পেটোয়া বাহিনী’ হিসেবে কাজ করত, এখনো একই ধরনের প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তাঁর ভাষ্য, পুলিশ সদস্যদের পদোন্নতি ও বদলির ভয় দেখিয়ে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে এনসিপির এই নেতা বলেন, আওয়ামী লীগের ‘দলদাস’ হতে গিয়ে অতীতে পুলিশ বাহিনী যে পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিল, সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়া উচিত। তিনি দাবি করেন, প্রশাসনকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হলে ভবিষ্যতে এর নেতিবাচক পরিণতি ভোগ করতে হবে।
বিচার বিভাগ নিয়েও কঠোর সমালোচনা করেন হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি অভিযোগ করেন, বিচার বিভাগীয় সচিবালয় বিলুপ্ত করে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা খর্ব করা হয়েছে। তাঁর দাবি, বিচার বিভাগকে আইন মন্ত্রণালয়ের অধীনে এনে সরকার বিচারকদের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে।
তিনি আরও বলেন, বিচারকদের পদোন্নতি ও পোস্টিংকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে তাঁদের স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ সীমিত করা হচ্ছে। এমনকি আদালতের রায়ও স্বাধীনভাবে হচ্ছে না বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ রায় ‘ঢাকা থেকে রিমোট কন্ট্রোলে পরিচালিত’ হয় এবং বিচারকেরা শুধু তা পড়ে শোনান।
ঝিনাইদহে এনসিপি ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল–এর নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের প্রসঙ্গ তুলে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, বিএনপি মজলুমদের অত্যাচারীতে পরিণত করার চেষ্টা করছে। তিনি দাবি করেন, এটি বিচ্ছিন্ন কোনো স্থানীয় ঘটনা নয়; বরং কেন্দ্রীয় নির্দেশনার অংশ।
এ সময় এনসিপি নেতা তারেক রেজা ও যুবশক্তির দুই নেতাকে গ্রেপ্তার এবং আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়ায় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। একই সঙ্গে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলার ঘটনায় আট ঘণ্টা পর্যন্ত মামলা গ্রহণ না করায় পুলিশের সমালোচনা করেন।
আসন্ন কোরবানি ঈদ উপলক্ষে পশুর হাট ব্যবস্থাপনা নিয়েও মন্তব্য করেন হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি অভিযোগ করেন, টেন্ডার প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে প্রভাবশালীরা নিজেদের মধ্যে হাট ভাগাভাগি করে নিচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় যুবশক্তির সাংগঠনিক সম্পাদক রিফাত রশিদসহ এনসিপি ও যুবশক্তির কেন্দ্রীয় নেতারা। অনুষ্ঠান শেষে এনসিপি ও যুবশক্তির নেতা-কর্মীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন।