প্রিন্ট এর তারিখঃ May 26, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ May 26, 2026 ইং
‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ ধ্বনিতে মুখর আরাফার ময়দান

সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) ও আরব নিউজের তথ্যানুযায়ী, জিলহজ মাসের নবম দিনে সূর্যোদয়ের পর থেকেই মিনির তাবু নগরী থেকে হাজিরা আরাফাতের ময়দানের উদ্দেশ্যে রওনা হন। ইসলামের নির্দেশনা অনুযায়ী, এই ময়দানে অবস্থান করা হজের প্রধান ফরজ কাজ। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, “আরাফাই হলো হজ।” অর্থাৎ, কেউ যদি নির্দিষ্ট সময়ে এই ময়দানে উপস্থিত হতে না পারেন, তবে তাঁর হজ সম্পূর্ণ হয় না। সূর্যাস্ত পর্যন্ত হাজিরা এই পবিত্র সীমানার ভেতরে অবস্থান করে আল্লাহর দরবারে নিজের এবং পুরো মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ, শান্তি ও গুনাহ মাফের জন্য আকুল আবেদন জানান।
জাবালে রহমত ও ঐতিহাসিক বিদায় হজের স্মৃতি
আরাফাত ময়দানের ঠিক মাঝখানে অবস্থিত ছোট গ্রানাইট পাহাড় ‘জাবালে রহমত’ বা দয়ার পাহাড়কে কেন্দ্র করে হাজিদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। এই পাহাড়ের পাদদেশেই মানবজাতির আদি পিতা হজরত আদম (আ.) ও বিবি হাওয়া (আ.)-এর পুনর্মিলন হয়েছিল বলে জনশ্রুতি রয়েছে। এছাড়াও, এই ঐতিহাসিক ময়দানেই ৬৩২ খ্রিষ্টাব্দে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) তাঁর জীবনের শেষ হজ বা বিদায় হজের ভাষণ প্রদান করেছিলেন। সেই ভাষণে তিনি মানবতাবোধ, নারীর অধিকার, জাতিগত সমতা এবং বর্ণবাদের অবসান ঘটিয়ে একটি সুশৃঙ্খল সমাজের রোডম্যাপ দিয়ে যান, যা আজও বিশ্ববাসীর জন্য আলোর দিশারী।
তীব্র দাবদাহ ও সৌদি কর্তৃপক্ষের নিরাপত্তা ব্যবস্থা
চলতি বছরের হজের মৌসুমে মধ্যপ্রাচ্যের তীব্র গরম ও দাবদাহের কারণে সৌদি প্রশাসন বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে হাজিদের সার্বক্ষণিক ছাতা ব্যবহার করা, প্রচুর পরিমাণে পানি ও স্যালাইন পান করা এবং সরাসরি সূর্যের আলো থেকে নিজেকে দূরে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। হজ পালনকারীদের সুবিধার্থে পুরো ময়দানজুড়ে স্বয়ংক্রিয় ওয়াটার স্প্রিংকলার বা পানি ছিটানোর বিশেষ যন্ত্রের মাধ্যমে বাতাস শীতল রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়াও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিখুঁত পরিবহন ব্যবস্থা, বিশেষায়িত ফিল্ড হাসপাতাল ও জরুরি উদ্ধারকারী দল ২৪ ঘণ্টা নিয়োজিত রয়েছে।
পরবর্তী আনুষ্ঠানিকতা: মুজদালিফা ও কঙ্কর নিক্ষেপ
আরাফাতের ময়দানে সূর্যাস্ত পর্যন্ত ইবাদত-বন্দেগিতে মগ্ন থাকার পর হাজিরা মাগরিবের নামাজ আদায় না করেই মুজদালিফার উদ্দেশ্যে রওনা হবেন। সেখানে পৌঁছে তারা মাগরিব ও এশার নামাজ একসাথে (কসর) আদায় করবেন এবং খোলা আকাশের নিচে রাত্রিযাপন করবেন। মিনায় শয়তানের প্রতীকী স্তম্ভে নিক্ষেপ করার জন্য প্রয়োজনীয় পাথর বা কঙ্কর তারা এই মুজদালিফার ময়দান থেকেই সংগ্রহ করবেন। পরদিন ১০ জিলহজ সকালে ফজরের নামাজ শেষে হাজিরা আবার মিনায় ফিরে যাবেন এবং শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ, পশু কোরবানি ও মাথা মুণ্ডন করার মাধ্যমে হজের চূড়ান্ত আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করবেন।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বার্তা এক্সপ্রেস