প্রিন্ট এর তারিখঃ May 26, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ May 26, 2026 ইং
‘গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায়’ হামলার হুঁশিয়ারি, কিয়েভ ছাড়ছেন বিদেশিরা

রাশিয়া ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ–এ প্রতিরক্ষাশিল্প ও ড্রোন কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে ‘ধারাবাহিক হামলা’ চালানোর হুমকি দিয়েছে। একই সঙ্গে কিয়েভে অবস্থানরত বিদেশি নাগরিক, কূটনৈতিক মিশনের কর্মী এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিদের দ্রুত শহর ত্যাগের আহ্বান জানিয়েছে মস্কো।
রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পৃথক বিবৃতিতে এ সতর্কতা দেওয়া হয়েছে। মস্কোর দাবি, অধিকৃত লুহানস্ক অঞ্চলের স্টারোবিলস্ক শহরে গত সপ্তাহে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় শিক্ষার্থীদের একটি আবাসিক ভবনে অন্তত ১৮ জন নিহত হন। ওই ঘটনার জবাব হিসেবেই নতুন হামলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে রাশিয়া।
রুশ কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, স্টারোবিলস্কে হামলার ঘটনাকে তারা ‘চূড়ান্ত সীমা’ হিসেবে বিবেচনা করছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ইউক্রেনের ড্রোন তৈরি, প্রোগ্রামিং এবং পরিচালনা–সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে পরিকল্পিত ও ধারাবাহিক সামরিক অভিযান চালানো হবে।
রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, এসব স্থাপনা কিয়েভ শহরের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে রয়েছে। এ কারণে সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে বিদেশি নাগরিকদের দ্রুত শহর ছেড়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কিয়েভের সাধারণ বাসিন্দাদের সামরিক ও প্রশাসনিক স্থাপনার আশপাশ এড়িয়ে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইউক্রেন ড্রোনযুদ্ধে উল্লেখযোগ্য সক্ষমতা অর্জন করেছে বলে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকেরা মনে করছেন। বিশেষ করে রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামো, সামরিক ঘাঁটি ও বিভিন্ন কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুতে দূরপাল্লার ড্রোন হামলার ক্ষেত্রে কিয়েভ বেশ কিছু সফল অভিযান পরিচালনা করেছে। রাশিয়া এসব হামলাকে ‘সন্ত্রাসবাদী কার্যক্রম’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে পাল্টা বড় পরিসরে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে আসছে।
চার বছরের বেশি সময় ধরে চলমান রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে পূর্ব ইউক্রেনের চারটি অঞ্চলকে নিজেদের অংশ হিসেবে দাবি করে আসছে মস্কো। এর মধ্যে লুহানস্ক অন্যতম। যদিও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বড় অংশ রাশিয়ার এই দাবি স্বীকৃতি দেয়নি।
রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আরেক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও–কে সম্ভাব্য সামরিক পরিকল্পনা সম্পর্কে অবহিত করেছেন। একই সঙ্গে কিয়েভে অবস্থানরত মার্কিন দূতাবাসের কর্মীদের সরিয়ে নেওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, রাশিয়ার এই প্রকাশ্য হুঁশিয়ারি ইউক্রেন যুদ্ধকে আরও উত্তপ্ত করে তুলতে পারে। বিশেষ করে রাজধানী কিয়েভে বড় আকারের হামলার আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক মহলে নতুন উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে বিদেশি কূটনৈতিক মিশন ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর নিরাপত্তা নিয়েও শঙ্কা বাড়ছে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বার্তা এক্সপ্রেস