প্রিন্ট এর তারিখঃ May 27, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ May 27, 2026 ইং
ঈদযাত্রার দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ চেয়ে ক্ষেতমজুর সমিতির বিক্ষোভ

টাঙ্গাইলে ঈদযাত্রার পথে ট্রাক উল্টে ১৫ ক্ষেতমজুর ও শ্রমজীবী মানুষের মৃত্যুর ঘটনায় নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর সমিতি। একই সঙ্গে আহতদের সরকারিভাবে চিকিৎসা নিশ্চিত করার আহ্বানও জানিয়েছে সংগঠনটি।
মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে এসব দাবি জানানো হয়। সমাবেশে বিভিন্ন শ্রমিক, কৃষক ও বামপন্থী সংগঠনের নেতারা অংশ নেন।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ক্ষেতমজুর সমিতির সভাপতি ডা. ফজলুর রহমান। বক্তব্য দেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন (প্রিন্স), ক্ষেতমজুর সমিতির কার্যকরী সভাপতি আনোয়ার হোসেন, সাধারণ সম্পাদক অর্ণব সরকার, সহসাধারণ সম্পাদক কল্লোল বণিক এবং নির্বাহী কমিটির সদস্য মোতালেব হোসেন।
এ ছাড়া সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য দেন ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র ঢাকা মহানগরের সাংগঠনিক সম্পাদক মুর্শিকুল ইসলাম, রিকশা-ভ্যান-ইজিবাইক শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আবদুল কুদ্দুসসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, ঈদকে সামনে রেখে জীবিকার তাগিদে রাজধানী ও বিভিন্ন শহরে কাজ করা দরিদ্র শ্রমজীবী মানুষ কম খরচে বাড়ি ফেরার চেষ্টা করেন। নিরাপদ পরিবহন ব্যবস্থা ও পর্যাপ্ত সরকারি নজরদারির অভাবে তাঁরা ঝুঁকিপূর্ণভাবে পণ্যবাহী যানবাহনে যাতায়াত করতে বাধ্য হন। এর ফলেই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় একের পর এক প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে।
রুহিন হোসেন বলেন, “ট্রাক উল্টে ১৫ জন খেতমজুরসহ শ্রমজীবী মানুষের মৃত্যু হলো, কিন্তু এখন পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে নিহত পরিবারগুলোর ক্ষতিপূরণ বা পুনর্বাসন নিয়ে কোনো স্পষ্ট ঘোষণা আসেনি।”
তিনি আরও বলেন, দেশের দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষ কাজের সন্ধানে রাজধানীসহ বড় শহরগুলোতে আসেন। দিনরাত পরিশ্রম করে উপার্জিত অর্থ পরিবারে পৌঁছে দিতে তাঁরা স্বল্প খরচে যাতায়াতের পথ খোঁজেন। সে কারণেই অনেকেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রডবোঝাই ট্রাকে করে বাড়ি ফিরছিলেন।
সড়ক দুর্ঘটনায় এমন মৃত্যুকে “কাঠামোগত হত্যাকাণ্ড” হিসেবে উল্লেখ করে রুহিন হোসেন বলেন, নিরাপদ গণপরিবহন নিশ্চিত ও শ্রমজীবী মানুষের যাত্রা নিরাপদ করতে কার্যকর রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
সমাবেশে ডা. ফজলুর রহমান বলেন, “যেসব শ্রমজীবী মানুষ মারা গেছেন, তাঁদের পরিবারকে পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি আহতদের সরকারিভাবে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হবে।”
বক্তারা আরও বলেন, দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বাড়লেও কার্যকর পদক্ষেপের অভাব রয়েছে। শুধু বক্তব্য বা আশ্বাস নয়, বাস্তবভিত্তিক উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে সড়কে মৃত্যুর মিছিল বন্ধে সরকারকে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বার্তা এক্সপ্রেস