
বিবিসি
২০২৪ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী বিতর্ক চলাকালে সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের আচরণ দেখে তিনি ভয় পেয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন তাঁর স্ত্রী জিল বাইডেন। তিনি বলেন, ওই মুহূর্তে তাঁর মনে হয়েছিল, জো বাইডেন সম্ভবত স্ট্রোকের শিকার হয়েছেন।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জিল বাইডেন এ অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “আমি ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। কারণ এর আগে বা পরে জোকে আমি কখনো এমন অবস্থায় দেখিনি।”
তিনি আরও বলেন, “আমি জানি না ঠিক কী হয়েছিল। কিন্তু যখন আমি তাঁকে দেখছিলাম, মনে হচ্ছিল—হায় ঈশ্বর, ও তো মনে হয় স্ট্রোক করছে। আমি সত্যিই খুব বেশি ভয় পেয়েছিলাম।”
বিতর্কের পর রাজনৈতিক চাপ
২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ওই বিতর্কে অংশ নেন তৎকালীন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেন। বিতর্কে তাঁর পারফরম্যান্স নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয় এবং ডেমোক্র্যাট দলের ভেতর থেকেই তাঁর প্রার্থিতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
এরপর দলীয় চাপ বাড়তে থাকলে শেষ পর্যন্ত তিনি নির্বাচনী দৌড় থেকে সরে দাঁড়ান এবং তৎকালীন ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসকে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হিসেবে সমর্থন জানান।
‘অস্বাভাবিক’ আচরণ ও উদ্বেগ
সিবিএস নিউজের সানডে মর্নিং অনুষ্ঠানে রিটা ব্রেভারের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে জিল বাইডেন এই মন্তব্য করেন, যা আগামী রোববার সম্প্রচারের কথা রয়েছে।
বিতর্ক চলাকালে জো বাইডেনের কণ্ঠস্বর ভাঙা ও কর্কশ শোনায় এবং একাধিকবার তাঁর বক্তব্যে অসংলগ্নতা দেখা যায়—এমন অভিযোগ তখন ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়।
তৎকালীন তাঁর নির্বাচনী শিবির দাবি করেছিল, তিনি অসুস্থ ছিলেন বলেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল।
দীর্ঘ রাজনৈতিক যাত্রা ও ঘনিষ্ঠ ভূমিকা
ডেলাওয়ারের সিনেটর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হওয়া পর্যন্ত জো বাইডেনের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে সব সময় তাঁর পাশে ছিলেন জিল বাইডেন। রাজনৈতিক মহলে তাঁকে বাইডেনের ঘনিষ্ঠ পরামর্শক এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবেও দেখা হয়।
২০২৪ সালের নির্বাচনী সিদ্ধান্ত—বিশেষ করে বাইডেনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে দাঁড়ানো—নেওয়ার ক্ষেত্রেও জিল বাইডেনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা।
বিতর্কের রাজনৈতিক প্রভাব
২০২৪ সালের ওই বিতর্ককে কেন্দ্র করে মার্কিন রাজনীতিতে নতুন করে আলোড়ন তৈরি হয়। নির্বাচনের কয়েক মাস আগে অনুষ্ঠিত ওই মুখোমুখি বিতর্কে অভিবাসন, অর্থনীতি, গর্ভপাতের অধিকারসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে ট্রাম্প ও বাইডেনের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, ওই বিতর্ক ডেমোক্র্যাট শিবিরে অনিশ্চয়তা আরও বাড়িয়ে তোলে এবং শেষ পর্যন্ত প্রার্থিতা পরিবর্তনের সিদ্ধান্তকে ত্বরান্বিত করে।
জিল বাইডেনের সাম্প্রতিক মন্তব্য সেই সময়ের রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত চাপের নতুন একটি দিক সামনে এনেছে, যা ২০২৪ সালের নির্বাচনী ইতিহাসকে আবারও আলোচনায় নিয়ে এসেছে।