
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ অবসান এবং সম্ভাব্য সমঝোতা চুক্তি নিয়ে চলমান আলোচনায় নতুন করে কঠোর শর্ত যুক্ত করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। আন্তর্জাতিক একাধিক গণমাধ্যমের বরাতে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত চুক্তির কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক পুনর্গঠন করে তা আবার ইরানের কাছে পাঠানো হয়েছে, যা আলোচনাকে আরও দীর্ঘ ও জটিল করে তুলতে পারে।
এএফপি-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, যুদ্ধ অবসানে সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি।
নতুন শর্ত ও পরিবর্তনের ইঙ্গিত
শনিবার নিউইয়র্ক টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্প প্রশাসন প্রস্তাবিত চুক্তির কয়েকটি শর্ত আরও কঠোর করেছে। সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, নতুন কাঠামোটি পুনর্বিবেচনার জন্য আবার তেহরানের কাছে পাঠানো হয়েছে।
তবে কী কী নির্দিষ্ট পরিবর্তন আনা হয়েছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানা যায়নি।
অন্যদিকে অ্যাক্সিওস-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে চুক্তির কিছু গুরুত্বপূর্ণ অংশ আরও কঠোর করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। এর মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হলো ইরানের পারমাণবিক উপকরণ ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত বিষয়।
পারমাণবিক ইস্যুতে কঠোর অবস্থান
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান উদ্বেগ হলো ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা সীমিত রাখা এবং ভবিষ্যতে দেশটিকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখা।
ট্রাম্পও তার অবস্থানে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, যেকোনো চুক্তির ক্ষেত্রে তার অন্যতম প্রধান শর্ত হলো ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারবে না।
হরমুজ প্রণালি ইস্যু
চুক্তি আলোচনায় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা। এই নৌপথ বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল পরিবাহিত হয় বলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন। ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, এই প্রণালির অবাধ ও নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা চুক্তির একটি অপরিহার্য অংশ।
আলোচনা দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা
নতুন শর্ত যুক্ত হওয়ার ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান আলোচনার সময়সীমা আরও দীর্ঘ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, চুক্তির কাঠামো যত কঠোর হচ্ছে, ততই সমঝোতায় পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ছে।
এতে করে যুদ্ধ অবসানের সম্ভাব্য চুক্তি বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে।
সামগ্রিক প্রেক্ষাপট
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান কেবল পারমাণবিক কর্মসূচির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং আঞ্চলিক নিরাপত্তা, জ্বালানি সরবরাহ এবং ভূরাজনৈতিক ভারসাম্যও এতে গভীরভাবে জড়িত।
ফলে চুক্তি নিয়ে অগ্রগতি হলেও তা এখনো ভঙ্গুর অবস্থায় রয়েছে এবং চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছাতে উভয় পক্ষকেই আরও জটিল কূটনৈতিক আলোচনার মধ্য দিয়ে যেতে হবে।