প্রিন্ট এর তারিখঃ Jun 2, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jun 2, 2026 ইং
শিশুহত্যা ইস্যুতে উত্তাল রাজনীতি, প্রধানমন্ত্রীর ওয়াদা বাস্তবায়নের দাবি বিরোধী দলের

রাজধানীর পল্লবীতে শিশুটির নির্মম হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার আহ্বান জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া ১৫ দিনের মধ্যে বিচার শেষ করার প্রতিশ্রুতি যেন শতভাগ বাস্তবায়িত হয়—এটি এখন দেশের জনগণের প্রত্যাশা।
সোমবার বিকেলে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের জাতীয় হৃদ্রোগ ইনস্টিটিউট-এ সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন। এর আগে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিশুটির বাবাকে দেখতে যান। হজ পালন শেষে দেশে ফিরে বিমানবন্দর থেকে সরাসরি তিনি হাসপাতালে পৌঁছান বলে জানান।
শফিকুর রহমান বলেন, তিনি চান না এই হত্যাকাণ্ডের বিচার নিয়ে কোনো ধরনের ‘তামাশা’ তৈরি হোক। তাঁর মতে, বিচার ব্যবস্থার ওপর জনআস্থার সংকট দূর করতে হলে দ্রুত ও স্বচ্ছ বিচার প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা জরুরি।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নিহত শিশুর পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ১৫ দিনের মধ্যে বিচার সম্পন্ন করার আশ্বাস দিয়েছেন। সেই আশ্বাস বাস্তবায়িত হলে তা দেশের ১৮ কোটি মানুষের মধ্যে ইতিবাচক বার্তা দেবে এবং জনগণ সরকারের প্রতি আস্থা প্রকাশ করবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
বিরোধীদলীয় নেতা আরও বলেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে বিশ্বাস করেন—যদি বিচার বিভাগ আন্তরিকভাবে উদ্যোগ নেয়, তাহলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই বিচারিক আদালতের কার্যক্রম সম্পন্ন করা সম্ভব। একইসঙ্গে উচ্চ আদালতে আপিলসহ পরবর্তী প্রক্রিয়াও দ্রুত সম্পন্ন করা গেলে এক মাসের মধ্যেই একটি দৃষ্টান্তমূলক রায় দেওয়া সম্ভব হতে পারে বলে তিনি মত দেন।
তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘসূত্রতা, হস্তক্ষেপ এবং বিচারপ্রক্রিয়াকে জটিল করার প্রবণতার কারণে দেশে খুন ও ধর্ষণের মতো অপরাধের বিচার অনেক সময় ঝুলে থাকে। এতে জনগণের মধ্যে বিচারব্যবস্থার প্রতি অনাস্থা তৈরি হচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
শফিকুর রহমান আরও বলেন, বিচারপ্রক্রিয়াকে দীর্ঘায়িত করতে নানা ধরনের কৌশল ও ষড়যন্ত্র হতে পারে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। তাঁর ভাষায়, বিচারকে বিলম্বিত করার উদ্দেশ্যে নতুন করে বিভিন্ন ব্যক্তির নাম জড়ানোর প্রবণতাও থাকতে পারে, যা একটি পরিকল্পিত চক্রান্ত হতে পারে।
এ সময় তিনি আইনজীবীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, আত্মস্বীকৃত অপরাধীদের পক্ষে অবস্থান না নিয়ে ন্যায়বিচারের পক্ষে ভূমিকা রাখা উচিত।
ঘটনাস্থলে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন এবং ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির সেলিম উদ্দিনসহ দলের অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
পল্লবীর এ হত্যাকাণ্ডকে ঘিরে বিচারপ্রক্রিয়ার অগ্রগতি এবং সময়সীমা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। দ্রুত বিচার নিশ্চিতের দাবি এখন বিভিন্ন মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বার্তা এক্সপ্রেস