
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) আসন্ন পরিচালনা পরিষদ নির্বাচনের তফসিল এবং ভোটার তালিকার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে করা রিট আবেদনের ওপর হাইকোর্ট আগামীকাল বুধবার আদেশ দেবেন। মঙ্গলবার শুনানি শেষে বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ দিন নির্ধারণ করেন।
বিসিবির ঘোষিত সূচি অনুযায়ী আগামী ৭ জুন পরিচালনা পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। তবে নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার আগেই কাউন্সিলর মনোনয়ন ও ভোটার তালিকা নিয়ে আপত্তি তুলে আদালতের দ্বারস্থ হন কয়েকজন আবেদনকারী।
রিটকারীদের অভিযোগ, তারা ২০২৫-২০২৯ মেয়াদের জন্য বৈধভাবে কাউন্সিলর হিসেবে মনোনীত বা নির্বাচিত হলেও চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় তাদের নাম রাখা হয়নি। এ কারণে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তারা।
গত ৬ মে দেশের বিভিন্ন জেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতিদের কাছে কাউন্সিলর মনোনয়নের জন্য বিসিবির পক্ষ থেকে একটি চিঠি পাঠানো হয়। সেই চিঠি বাতিল এবং নির্বাচনী কার্যক্রম স্থগিতের দাবিতে ১৮ মে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়।
আরমানুল ইসলাম নয়নের নেতৃত্বে মোট ছয়জন আবেদনকারী রিট দায়ের করেন। অন্য আবেদনকারীরা হলেন নাঈম হাওলাদার, এনামুল আহসান, আবদুল্লাহ অর্ক, আকিব জাভেদ এবং রাকিবুল ইসলাম।
নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ১৬ মে বিসিবি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে। পরদিন খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয় এবং ১৯ মে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশিত হয়। এরপর নিজেদের নাম বাদ পড়ার বিষয়টি সামনে এনে আবেদনকারীরা আদালতে সম্পূরক আবেদন জমা দেন।
সম্পূরক আবেদনে সংশ্লিষ্ট চিঠি, ভোটার তালিকা এবং নির্বাচনী তফসিলের বৈধতা নিয়ে রুল জারির আবেদন করা হয়েছে। একই সঙ্গে আদালতের কাছে অনুরোধ জানানো হয়েছে, রুল বিচারাধীন থাকা অবস্থায় নির্বাচনী কার্যক্রম স্থগিত রাখতে।
এ ছাড়া আবেদনকারীদের কাউন্সিলর হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে নতুন ভোটার তালিকা প্রস্তুতের পর নির্বাচন আয়োজনের নির্দেশনা দেওয়ারও আবেদন করা হয়েছে।
রিটকারীদের পক্ষে আদালতে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ হোসেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী আজিম উদ্দিন পাটোয়ারী ও মো. শফিকুল ইসলাম। রাষ্ট্রের পক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল এবং অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক অংশ নেন। বিসিবির পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী মাহিন এম রহমান।
শুনানি শেষে আবেদনকারীদের আইনজীবীরা জানান, আদালত বুধবার বিষয়টি নিয়ে আদেশ দেবেন। সেই সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করতে পারে বিসিবির নির্ধারিত নির্বাচনী কার্যক্রমের ভবিষ্যৎ।