
আগামী বাজেটে বরাদ্দকৃত প্রতিটি অর্থ জনগণের কল্যাণে সঠিকভাবে ব্যয় হচ্ছে কি না—সেটি কঠোর নজরদারির আওতায় রাখা হবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)–এর দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। একই সঙ্গে তিনি বহুল আলোচিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির অর্থসংস্থান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।
শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির যুব সংগঠন জাতীয় যুবশক্তির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে দলের ছায়া বাজেট ২০২৬–২৭ উপস্থাপন করা হয়।
‘প্রতিটি টাকা জনগণের কাজে ব্যবহার হচ্ছে কি না, তা নজরদারিতে থাকবে’
অনুষ্ঠানে বক্তৃতাকালে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, আগামী বাজেটে যেসব অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হবে, তার প্রতিটি পয়সা জনগণের স্বার্থে ব্যয় হচ্ছে কি না—তা নজরদারিতে রাখা হবে।
তিনি বলেন, “আমরা নজরদারিতে রাখব, আগামী বাজেটের যে অর্থ বরাদ্দ হবে, প্রতিটি পয়সা যেন জনগণের কাজেই ব্যবহৃত হয়। পরিসংখ্যাননির্ভর নামসর্বস্ব কোনো বাজেট আমরা আর দেখতে চাই না।”
তার মতে, বাজেটকে শুধু সংখ্যার সমষ্টি হিসেবে দেখলে হবে না; বরং বাস্তব উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নের সঙ্গে এর সরাসরি সম্পর্ক থাকতে হবে।
ছায়া বাজেটে ৭১ দফা অর্থনৈতিক পরিকল্পনা
অনুষ্ঠানে এনসিপির ছায়া বাজেট ২০২৬–২৭–এর মূল রূপরেখা তুলে ধরেন দলের ছায়া বাজেট কমিটির প্রধান আতিক মুজাহিদ। ‘সংস্কার, কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগের মাধ্যমে টেকসই প্রবৃদ্ধি’ শীর্ষক এ পরিকল্পনায় মোট ৭১ দফা প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়।
প্রস্তাবিত বাজেট কাঠামোতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, ব্যাংকিং খাতের সংস্কার এবং উৎপাদনমুখী অর্থনীতি গঠনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি নিয়ে অর্থায়ন প্রশ্ন
ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির সম্ভাব্য ব্যয় ও অর্থায়ন কাঠামো নিয়ে প্রশ্ন তোলেন হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি বলেন, ১ কোটি ৪০ লাখ মানুষকে স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনার পরিকল্পনা থাকলে প্রতি বছর বিপুল অঙ্কের অর্থ প্রয়োজন হবে।
তিনি উল্লেখ করেন, এ কর্মসূচিতে প্রতিবছর প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে। সেই অর্থ কীভাবে সংস্থান করা হবে—সে বিষয়ে স্বচ্ছতা থাকা জরুরি বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তার প্রশ্ন, এই অর্থ কি বিদ্যমান সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি থেকে কেটে নেওয়া হবে, নাকি আলাদা উৎস থেকে সংস্থান করা হবে—সে বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রয়োজন।
ব্যাংক খাত ও নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ
অনুষ্ঠানে হাসনাত আবদুল্লাহ আরও বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক–এর গভর্নর নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়েও অর্থনীতির ভবিষ্যৎ গতিপথ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
তিনি সাম্প্রতিক সময়ে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড–এর বিভিন্ন বিষয় নিয়েও মন্তব্য করেন, যা তাঁর মতে দেশের ব্যাংকিং খাতের জন্য ইতিবাচক নয়।
তার ভাষায়, ব্যাংকিং খাতকে পরিবারকেন্দ্রিক ও লুটপাটনির্ভর কাঠামো থেকে বের করে এনে জনগণকেন্দ্রিক ও উৎপাদনশীল খাতে রূপান্তর করতে হবে।
এনসিপির অর্থনৈতিক দর্শন
হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, এনসিপি এমন একটি অর্থনৈতিক কাঠামোর প্রস্তাব দিচ্ছে যেখানে কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও বিনিয়োগ—এই তিনটি খাতকে সমান গুরুত্ব দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, “রাষ্ট্র ও জনগণের মধ্যে যে দায়বদ্ধতার সম্পর্ক, সেটি আমরা প্রতিষ্ঠা করতে চাই। ভোক্তা ও উৎপাদকের স্বার্থ সমানভাবে রক্ষা করেই একটি সমতাভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তুলতে হবে।”
উপস্থিত নেতারা
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন এনসিপির ছায়া বাজেট কমিটির উপপ্রধান আবদুল্লাহ আল ফয়সাল, যুগ্ম সদস্যসচিব আলাউদ্দিন মোহাম্মদ এবং জয়নাল আবেদীন শিশিরসহ দলের কেন্দ্রীয় ও যুব সংগঠনের নেতারা।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, দেশের বর্তমান বাজেট কাঠামোতে স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বাড়ানো জরুরি। একই সঙ্গে জনমুখী ও টেকসই অর্থনৈতিক পরিকল্পনা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।