
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাজনীতিবিদদের নিয়ে পরিকল্পিত অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তাঁর মতে, এসব কর্মকাণ্ডের পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে এবং এটি দেশের রাজনীতিকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেওয়ার ষড়যন্ত্রের অংশ।
শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপির প্রয়াত সংসদ সদস্য মাহবুবুল আলম তারা এবং তাঁর বড় ভাই প্রয়াত রাজনীতিবিদ মাহবুবুল হককে স্মরণে এই সভার আয়োজন করা হয়।
‘রাজনীতিকে হীনভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে’
মির্জা ফখরুল বলেন, বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহারের কারণে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ উদ্বেগজনক অবস্থায় পৌঁছেছে। তাঁর অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে রাজনীতিবিদদের সমাজের কাছে হীনভাবে উপস্থাপন করার চেষ্টা চলছে।
তিনি বলেন, “যা খুশি তা করা হচ্ছে। সমাজের কাছে রাজনীতিবিদদের সবচেয়ে হীন ব্যক্তি হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। রাজনীতি ধ্বংসের একটি সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র চলছে।”
তিনি আরও বলেন, অনলাইন প্ল্যাটফর্মে যেসব বুলিং ও অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, তা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং এটি সুসংগঠিত এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
‘গণতন্ত্র এখনো ঝুঁকিমুক্ত নয়’
চার মাস আগে নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে গণতান্ত্রিক ধারা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হলেও তা এখনো পুরোপুরি নিরাপদ নয় বলে মন্তব্য করেন বিএনপি মহাসচিব।
তিনি বলেন, “চারপাশে পরিকল্পিতভাবে এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে, যেখানে সবকিছুকে অর্থহীন করে নৈরাজ্য সৃষ্টি করা হচ্ছে।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, কিছু রাজনৈতিক শক্তি নির্বাচনের আগে থেকেই দেশে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে।
রাজনৈতিক শক্তিকে প্রতিহত করার আহ্বান
গণতন্ত্রবিরোধী শক্তির উত্থান সম্পর্কে সতর্ক করে মির্জা ফখরুল বলেন, এ ধরনের শক্তি যাতে সমাজে মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে, সে জন্য সব গণতান্ত্রিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
তিনি বলেন, সরকারের দায়িত্ব হলো এসব ষড়যন্ত্র চিহ্নিত করে তা রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করা।
বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থান
দলের অবস্থান স্পষ্ট করে মির্জা ফখরুল বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) একটি উদার গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল, কোনো বিপ্লবী সংগঠন নয়।
তিনি বলেন, বিএনপির কাছ থেকে কেউ বিপ্লবী রাজনৈতিক আচরণ প্রত্যাশা করলে তা ভুল ধারণা হবে।
স্মরণসভায় অন্যান্য বক্তাদের বক্তব্য
সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু। তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিএনপির বিরুদ্ধে অপপ্রচার মোকাবিলায় দলীয় নেতাকর্মীদের আরও সতর্ক থাকতে হবে।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ও অর্থনীতিবিদ মাহবুব উল্লাহ এবং ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আবু আহমেদ। তাঁরা প্রয়াত রাজনীতিবিদদের জীবন ও অবদানের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন মাসরুর রিয়াজ, ফেনী জেলা বিএনপির নেতা আনোয়ার হোসেন পাটোয়ারী, শেখ ফরিদ বাহার এবং মেজবাহ উদ্দিন খান।
স্মরণসভায় প্রয়াত দুই রাজনীতিবিদের পরিবারের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা তাঁদের নামে ফেনীতে কোনো স্থাপনা বা সড়কের নামকরণের প্রস্তাব দেন। প্রস্তাবটি সমর্থন করে মির্জা ফখরুল স্থানীয় বিএনপি নেতাদের এ বিষয়ে উদ্যোগ নিতে পরামর্শ দেন।