
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে রাজধানী ঢাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। মিছিলে দলটির শীর্ষ নেতারা অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার জনগণের সঙ্গে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করছে না এবং ধারাবাহিকভাবে নীতি পরিবর্তনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়ে দিচ্ছে।
বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর বাংলামোটর থেকে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের মোড় পর্যন্ত এই বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। এটি আয়োজন করে এনসিপির ঢাকা মহানগর উত্তর শাখা।
‘জনগণের পকেট কাটার চেষ্টা চলছে’—নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী
বিক্ষোভের আগে বাংলামোটরে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য দেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি অভিযোগ করে বলেন, সরকার একদিকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে দাম না বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেয়, অন্যদিকে অল্প সময়ের মধ্যেই তা বাস্তবায়ন করে উল্টো সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।
তিনি বলেন, “দুই বছরের মধ্যে দাম বাড়ানোর পরিকল্পনা নেই বলার এক মাসের মাথায় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হলো। এটি পল্টিবাজির রাজনীতি। জনগণ যাবে কোথায়?”
সরকারের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, অর্থনৈতিক চাপ জনগণের ওপর চাপিয়ে দিয়ে কোনো সমাধান পাওয়া যাবে না; বরং জনগণের সঙ্গে সংঘাত তৈরি হবে।
সরকারের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগ
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক ও ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসে বিদ্যুতের দাম না বাড়ানোর যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তা ভঙ্গ করেছে।
তিনি দাবি করেন, মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে বিদ্যুতের দাম প্রায় ১৬ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সময়ে জ্বালানি তেলের দামও বাড়ানো হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়কে আরও অস্থিতিশীল করে তুলেছে।
আরিফুল ইসলাম আদীব আরও বলেন, ব্যাংক ও আর্থিক খাতের শীর্ষ পদগুলোতে এমন ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে, যাদের অতীত কর্মকাণ্ড প্রশ্নবিদ্ধ। এতে অর্থনীতিতে অস্বচ্ছতা ও দুর্নীতির ঝুঁকি বাড়ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
‘জনগণের টাকা লুটপাটের মাধ্যমে ভাগ হচ্ছে’—তারিকুল ইসলাম
সমাবেশে এনসিপির যুব সংগঠন জাতীয় যুবশক্তি–এর সভাপতি তারিকুল ইসলাম বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দাম বাড়িয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ সংগ্রহ করা হচ্ছে।
তিনি অভিযোগ করেন, এই অর্থের একটি অংশ দলীয় সুবিধাভোগীদের মধ্যে ভাগ করা হচ্ছে এবং জনগণের ওপর অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে।
তারিকুল ইসলাম বলেন, “জনগণের ভোটে ক্ষমতায় এসে যদি জনগণের জীবন দুর্বিষহ করা হয়, তাহলে তার জবাব জনগণই দেবে।”
মিছিলে অংশগ্রহণ ও নেতৃত্ব
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব জয়নাল আবেদীন শিশির, সংগঠক আসাদ বিন রনি, মহানগর উত্তর শাখার জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলামসহ অন্যান্য নেতারা।
বক্তৃতা শেষে বাংলামোটর থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ধরে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের মোড় পর্যন্ত গিয়ে শেষ হয়।
মিছিলে এনসিপির সদস্যসচিব ও রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেন–ও অংশ নেন।
রাজনৈতিক উত্তাপের মধ্যে নতুন কর্মসূচি
রাজধানীতে এ ধরনের বিক্ষোভ কর্মসূচি দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে চলমান রাজনৈতিক উত্তাপকে আরও তীব্র করেছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা। এনসিপি নেতারা জানিয়েছেন, জনগণের স্বার্থে ভবিষ্যতেও এ ধরনের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।