
উন্নয়ন পরিকল্পনা, নীতিনির্ধারণ, সামাজিক পরিবর্তন এবং টেকসই উন্নয়ন কার্যক্রমে দক্ষ জনবলের চাহিদা বিশ্বজুড়ে ক্রমেই বাড়ছে। সরকারি প্রতিষ্ঠান, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলোতে দক্ষ মানবসম্পদের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় নতুন সুযোগ নিয়ে এসেছে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় (বাউবি)। বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপেন স্কুল পরিচালিত ‘মাস্টার অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ’ (এমডিএস) প্রোগ্রামের চতুর্থ ব্যাচে (জুলাই ২০২৬ সেশন) ভর্তি কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
উন্নয়ন খাতে ক্যারিয়ার গড়তে আগ্রহী শিক্ষার্থী ও কর্মজীবী পেশাজীবীদের জন্য এই স্নাতকোত্তর প্রোগ্রামটি বিশেষভাবে পরিকল্পিত। অনলাইন ও অফলাইন সমন্বিত শিক্ষাব্যবস্থার কারণে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের শিক্ষার্থীরা সহজেই এতে অংশগ্রহণ করতে পারবেন।
দুই বছরের স্নাতকোত্তর প্রোগ্রাম
বাউবির এমডিএস প্রোগ্রামের মেয়াদ দুই বছর। পুরো কোর্সটি চারটি সেমিস্টারে বিভক্ত, যেখানে প্রতিটি সেমিস্টারের মেয়াদ ছয় মাস।
এই সময়ের মধ্যে শিক্ষার্থীদের মোট ১৬টি কোর্স সম্পন্ন করতে হবে, যার মোট ক্রেডিট সংখ্যা ৬৫। তবে কর্মজীবী শিক্ষার্থীদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে কোর্স সম্পন্নের জন্য সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পর্যন্ত সময় রাখা হয়েছে। ফলে পেশাগত ব্যস্ততার মধ্যেও শিক্ষার্থীরা নিজেদের সুবিধামতো কোর্স সম্পন্ন করার সুযোগ পাবেন।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রতি সপ্তাহের শুক্র ও শনিবার ব্লেন্ডেড বা সমন্বিত পদ্ধতিতে ক্লাস অনুষ্ঠিত হবে। অর্থাৎ শিক্ষার্থীরা অনলাইন ও সরাসরি উভয় মাধ্যমেই পাঠগ্রহণ করতে পারবেন।
তবে সেমিস্টার শেষে চূড়ান্ত পরীক্ষাগুলো অনুষ্ঠিত হবে বাউবির গাজীপুরের মূল ক্যাম্পাসে।
উন্নয়ন খাতে নেতৃত্ব তৈরির লক্ষ্য
বিশ্বব্যাপী টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি), দারিদ্র্য বিমোচন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং নীতি বিশ্লেষণ বিষয়ে দক্ষ পেশাজীবী তৈরির লক্ষ্য নিয়ে এমডিএস প্রোগ্রামটি পরিচালিত হচ্ছে।
উন্নয়ন অর্থনীতি, সামাজিক গবেষণা, জননীতি, প্রকল্প ব্যবস্থাপনা এবং উন্নয়ন প্রশাসনের মতো বিষয়ে জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা দেশি-বিদেশি বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থা, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ পাবেন।
আবেদনের যোগ্যতা
এমডিএস প্রোগ্রামে ভর্তির জন্য স্বীকৃত যেকোনো বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজ থেকে মানবিক, বিজ্ঞান, ব্যবসায় শিক্ষা কিংবা অন্য যেকোনো বিষয়ে তিন বা চার বছর মেয়াদি স্নাতক ডিগ্রি থাকতে হবে।
এ ছাড়া যেসব শিক্ষার্থীর দুই বছর মেয়াদি স্নাতক (পাস) ডিগ্রির সঙ্গে মাস্টার্স ডিগ্রি রয়েছে, তারাও আবেদন করতে পারবেন।
শিক্ষাজীবনের যেকোনো স্তরে সর্বোচ্চ একটি তৃতীয় বিভাগ বা সমমানের সিজিপিএ গ্রহণযোগ্য হবে।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অতিরিক্ত শিক্ষাগত যোগ্যতা যেমন দ্বিতীয় মাস্টার্স বা অন্যান্য উচ্চতর ডিগ্রি থাকলে ভর্তি পরীক্ষার মূল্যায়নে অতিরিক্ত নম্বর যুক্ত হবে।
ভর্তি ফি ও অন্যান্য ব্যয়
আবেদন ফরমের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে এক হাজার টাকা।
প্রথম সেমিস্টারে আবেদন ফি ছাড়া মোট ভর্তি ব্যয় হবে ১৯ হাজার ১০০ টাকা। এর মধ্যে রয়েছে—
চারটি কোর্সের ফি: ১২ হাজার টাকা
রেজিস্ট্রেশন ফি: ২ হাজার টাকা
পরীক্ষার ফি: ৪ হাজার ৫০০ টাকা
একাডেমিক ক্যালেন্ডার ফি: ১০০ টাকা
পরিচয়পত্র (আইডি কার্ড) ফি: ২০০ টাকা
সেমিস্টার মার্কশিট ফি: ৩০০ টাকা
আবেদন পদ্ধতি
আগ্রহী প্রার্থীদের অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে। আবেদন গ্রহণ চলবে আগামী ২০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত।
ফি জমা দেওয়ার পর পূরণকৃত আবেদনপত্র প্রিন্ট করে সংরক্ষণ করতে হবে। কারণ ভর্তি-সংক্রান্ত মৌখিক পরীক্ষার সময় আবেদনপত্রের মুদ্রিত কপি জমা দিতে হবে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী ৩ জুলাই ২০২৬ মৌখিক (ভর্তি) পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। ওই দিন আবেদনকারীদের আবেদনপত্রের প্রিন্ট কপির পাশাপাশি সব শিক্ষাগত যোগ্যতার মূল সনদ, নম্বরপত্র এবং এক সেট ফটোকপি সঙ্গে আনতে হবে।
কর্মজীবীদের জন্য বিশেষ সুবিধা
প্রচলিত বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার তুলনায় এমডিএস প্রোগ্রামের অন্যতম বড় সুবিধা হলো এর নমনীয় শিক্ষা কাঠামো। চাকরি বা পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সুযোগ থাকায় এটি কর্মজীবীদের কাছে বিশেষভাবে আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, উন্নয়ন খাতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কাজ করতে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের জন্য এমডিএস একটি সময়োপযোগী ও সম্ভাবনাময় স্নাতকোত্তর প্রোগ্রাম। উন্নয়ন গবেষণা, প্রকল্প ব্যবস্থাপনা, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে দক্ষতা অর্জনের ক্ষেত্রে এই ডিগ্রি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
আগ্রহী প্রার্থীরা ভর্তি-সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়–এর ভর্তি বিজ্ঞপ্তি ও সংশ্লিষ্ট নির্দেশিকা থেকে জানতে পারবেন।