
নেটফ্লিক্সে মুক্তি পাওয়া ‘কর্তব্য’ সিনেমায় এক ভিন্নধর্মী চরিত্রে দেখা গেছে সাইফ আলী খানকে। রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র, ধর্মীয় প্রভাব, সামাজিক বৈষম্য ও ব্যক্তিগত সংকটের মিশেলে নির্মিত এই ক্রাইম-থ্রিলারে তিনি অভিনয় করেছেন এক পুলিশ কর্মকর্তার ভূমিকায়, যিনি সত্যের অনুসন্ধানে একসময় পুরো ব্যবস্থার বিরুদ্ধেই দাঁড়িয়ে যান।
গল্পের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ছোট শহরের পুলিশ কর্মকর্তা পবন। দায়িত্বশীল এই কর্মকর্তা এক নারী অনুসন্ধানী সাংবাদিককে নিরাপত্তা দেওয়ার দায়িত্ব পান। সাংবাদিকটি স্থানীয় এক প্রভাবশালী ধর্মীয় নেতার বিরুদ্ধে ওঠা গুরুতর অভিযোগের তদন্ত করছিলেন। কিন্তু তদন্ত শুরুর আগেই ঘটে যায় ভয়াবহ ঘটনা—সাংবাদিককে প্রকাশ্যে হত্যা করা হয়। সেই ঘটনার পর থেকেই শুরু হয় রহস্য, চাপ ও ষড়যন্ত্রের জটিল অধ্যায়।
একদিকে হত্যাকাণ্ডের তদন্ত, অন্যদিকে নিজের নিখোঁজ ভাইকে খুঁজে বের করার চ্যালেঞ্জ—দুই সংকটের মাঝখানে দাঁড়িয়ে পবন ধীরে ধীরে আবিষ্কার করে ক্ষমতার অদৃশ্য নেটওয়ার্ক। সমাজের নানা স্তরে ছড়িয়ে থাকা বৈষম্য, ধর্মের অপব্যবহার এবং রাজনৈতিক প্রভাবের মুখোমুখি হতে হয় তাকে।
সিনেমাটি শুধু অপরাধ অনুসন্ধানের গল্প নয়; এটি দায়িত্ববোধ ও নৈতিকতার সংঘাতও তুলে ধরে। একজন সরকারি কর্মকর্তা কখন নিজের চাকরির সীমা ছাড়িয়ে মানবিক দায়িত্বকে প্রাধান্য দেন, সেই প্রশ্নও সামনে আনে নির্মাণটি। পবনের চরিত্রের মধ্য দিয়ে দেখানো হয়েছে, নীরবতা কখনো কখনো অন্যায়ের সহযোগীতে পরিণত হয়।
চিত্রনাট্যে আন্তঃজাত প্রেম, পারিবারিক রক্ষণশীলতা এবং সামাজিক বিচারব্যবস্থার অন্ধকার দিকও গুরুত্ব পেয়েছে। পবনের ভাইয়ের প্রেম করে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সমাজের প্রচলিত মানসিকতার সমালোচনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে পিতৃতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতিনিধিত্বকারী বাবার চরিত্রটি গল্পে বাড়তি মাত্রা যোগ করেছে।
অভিনয়ের দিক থেকে সাইফ আলী খান সিনেমার সবচেয়ে বড় শক্তি। তাঁর চরিত্রে একসঙ্গে ক্ষোভ, অসহায়ত্ব, দায়িত্ববোধ ও প্রতিবাদের উপস্থিতি দেখা যায়। সংযত অভিনয়ের মধ্য দিয়েই তিনি একজন দ্বিধাগ্রস্ত কিন্তু দৃঢ়চেতা মানুষের মানসিক লড়াই ফুটিয়ে তুলেছেন।
সঞ্জয় মিশ্র, মনীশ চৌধুরী এবং যুধবীর আহালওয়াতও নিজেদের চরিত্রে প্রশংসনীয় অভিনয় করেছেন। বিশেষ করে যুধবীরের অভিনয়ে ভয়, হতাশা ও মানসিক চাপের প্রকাশ দর্শকের মনে দাগ কাটে। তবে প্রধান প্রতিপক্ষের চরিত্রটি আরও গভীরভাবে নির্মাণ করা হলে গল্পের নাটকীয়তা বাড়তে পারত।
পরিচালক পুলকিত সমাজের বাস্তব সংকটকে থ্রিলারের মোড়কে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেছেন। সিনেমাটি ধর্মকে নয়, বরং ধর্মের নামে ক্ষমতার অপব্যবহারকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। একই সঙ্গে মানবিক মূল্যবোধ ও সামাজিক দায়িত্ববোধের গুরুত্বও তুলে ধরে।
সব মিলিয়ে ‘কর্তব্য’ একটি চিন্তাশীল ও প্রাসঙ্গিক রাজনৈতিক-সামাজিক থ্রিলার। যদিও কিছু সীমাবদ্ধতার কারণে এটি অসাধারণ উচ্চতায় পৌঁছাতে পারেনি, তবু শক্তিশালী গল্প, পরিণত নির্মাণ এবং সাইফ আলী খানের অভিনয়ের কারণে ছবিটি দর্শকের আগ্রহ ধরে রাখতে সক্ষম।