
শেষ মুহূর্তে ম্যাচ যেন নতুন মোড় নিয়েছিল। গ্যালারির অনেক দর্শক তখন মাঠ ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, কেউ কেউ ধরেই নিয়েছিলেন ম্যাচ হাতছাড়া হয়ে গেছে। কিন্তু হঠাৎ করেই আশার আলো জ্বালান শরীফুল ইসলাম। টানা দুই বলে দুই উইকেট তুলে নিয়ে তিনি ম্যাচে ফেরান বাংলাদেশকে।
তখন অস্ট্রেলিয়ার জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল মাত্র ৯ রান, হাতে ছিল ৩০ বল। সমীকরণ কঠিন হলেও শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। প্রতিটি বলেই বাড়তে থাকে শ্বাসরুদ্ধকর অপেক্ষা।
পরের ওভারে মোস্তাফিজুর রহমান নিজের বোলিংয়ে একটি সহজ ক্যাচ নিতে না পারায় আক্ষেপ বাড়ে বাংলাদেশের সমর্থকদের। তবে শরীফুল আবারও আঘাত হানেন। উইকেট মেডেন ওভারে আরও একটি সাফল্য এনে দেন তিনি, আর দুর্দান্ত ক্যাচে তাঁকে সহায়তা করেন মেহেদী হাসান।
তবুও পথটা সহজ ছিল না। একদিকে তানজিদ হাসানের হাত ফসকে যায় গুরুত্বপূর্ণ একটি ক্যাচ, অন্যদিকে উইকেটে তখন জমে থাকা কুপার কনোলি দলকে জয়ের পথে এগিয়ে নিচ্ছিলেন। তবে মোস্তাফিজের এক চতুর ডেলিভারিতে শেষ পর্যন্ত সাজঘরে ফেরেন সেঞ্চুরি করা এই ব্যাটার।
শেষ ওভারে অস্ট্রেলিয়ার প্রয়োজন ছিল মাত্র ৩ রান, আর বাংলাদেশের দরকার ছিল একটি উইকেট। কিন্তু তাসকিন আহমেদের বলে অ্যাডাম জাম্পার বাউন্ডারিতেই শেষ হয়ে যায় সব নাটকীয়তা। মাত্র ১ উইকেটের হারে সিরিজে অস্ট্রেলিয়াকে ধবলধোলাই করার সুযোগ হারায় বাংলাদেশ।
২৭৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই এগিয়ে ছিল সফরকারীরা। প্রথম দুই ম্যাচের মতো দ্রুত উইকেট না পেয়ে শুরুতে কিছুটা চাপে পড়ে বাংলাদেশ। তবে শরীফুলের আঘাতে ম্যাচে ফিরে আসে স্বাগতিকরা।
অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসে সবচেয়ে উজ্জ্বল ছিলেন কুপার কনোলি। একপ্রান্ত আগলে রেখে খেলেন দারুণ দায়িত্বশীল ইনিংস এবং তুলে নেন ক্যারিয়ারের প্রথম ওয়ানডে সেঞ্চুরি। বিশেষ করে ৪৫তম ওভারে টানা তিন ছক্কা মেরে তিনি ম্যাচ প্রায় নিজেদের করে নিয়েছিলেন।
বাংলাদেশের হয়ে শরীফুল ইসলাম ক্যারিয়ারের প্রথম পাঁচ উইকেট শিকার করে শেষ মুহূর্তে রোমাঞ্চ ফিরিয়ে আনেন। কিন্তু শেষ হাসি হাসে অস্ট্রেলিয়াই।
এর আগে ব্যাট করতে নেমে ভালো শুরু পায়নি বাংলাদেশ। ইনিংসের প্রথম বলেই সাজঘরে ফেরেন সৌম্য সরকার। ৬১ রান তুলতেই হারিয়ে ফেলে তিন উইকেট। সেখান থেকে দলকে ঘুরে দাঁড়াতে সহায়তা করেন তাওহিদ হৃদয় ও লিটন দাস।
দুজনের ৯২ রানের জুটি বাংলাদেশের ইনিংসকে স্থিতিশীলতা দেয়। তবে পেশিতে টান লাগায় মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন লিটন। এরপর মোসাদ্দেক হোসেন হৃদয়ের সঙ্গে জুটি গড়ে দলের স্কোর এগিয়ে নেন। ৫৬ রানের কার্যকর ইনিংস খেলে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন তিনি।
হৃদয়ও খেলেন চমৎকার এক ইনিংস। ৮৮ বলে ৮৩ রান করে দলের লড়াকু সংগ্রহ গড়তে বড় ভূমিকা রাখেন এই ব্যাটার। ইনিংসের শেষদিকে চোট নিয়েও ব্যাট করতে নেমে ব্যক্তিগত এক আক্ষেপ ঘোচান লিটন দাস। দীর্ঘ ১১ বছর ও ২৭ ওয়ানডে পর অবশেষে মিরপুরে নিজের প্রথম ওয়ানডে ফিফটি তুলে নেন তিনি।
বাংলাদেশের সংগ্রহ শেষ পর্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হলেও যথেষ্ট ছিল না। শেষ মুহূর্তের রুদ্ধশ্বাস নাটকীয়তার পর তাই আক্ষেপ থেকেই যায়—স্কোরবোর্ডে যদি আরও কিছু রান যোগ হতো!