প্রিন্ট এর তারিখঃ Jun 15, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jun 15, 2026 ইং
ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে চার দেশ প্রস্তুত

ইরান যদি তার পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়ে স্পষ্ট এবং যাচাইযোগ্য ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ করে, তবে দেশটির ওপর আরোপিত সব ধরনের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নিতে প্রস্তুত রয়েছে ইউরোপের প্রধান চার দেশ—জার্মানি, ইতালি, ফ্রান্স এবং যুক্তরাজ্য। সোমবার (১৫ জুন) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার বরাত দিয়ে এইট এএম মিডিয়া এক প্রতিবেদনে ইউরোপীয় দেশগুলোর এই কূটনৈতিক সিদ্ধান্তের কথা প্রকাশ করেছে। যৌথ বিবৃতিতে তেহরানের পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের চেষ্টার বিরুদ্ধে তাদের দৃঢ় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন এই চার দেশের শীর্ষ নেতারা।
ইউরোপীয় জোটের শর্তাবলি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং বৈশ্বিক কূটনৈতিক তৎপরতার বিস্তারিত বিবরণ নিচে তুলে ধরা হলো:
পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণে যৌথ কূটনৈতিক অবস্থান
রোববার (১৪ জুন) রাতে প্রকাশিত ওই যৌথ বিবৃতিতে চার দেশের শীর্ষ নেতারা বিশেষভাবে জোর দিয়ে বলেছেন যে, ইরানকে অবশ্যই ‘কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি বা অর্জন করতে দেওয়া যাবে না।’ এই লক্ষ্য অর্জনে এবং উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা বা আইএইএ (IAEA)-এর সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। তারা মনে করছেন, আলোচনার টেবিলে তেহরানের আন্তরিকতা প্রমাণ হলে দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক অচলাবস্থার অবসান ঘটিয়ে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া সম্ভব।
হরমুজ প্রণালি উন্মুক্তকরণ ও লেবানন সংকট
পারমাণবিক বিষয়ের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক নিরাপত্তার স্বার্থে মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত নৌপথ হরমুজ প্রণালিটি কোনো ধরনের বাধা ছাড়াই অনতিবিলম্বে পুনরায় খুলে দেওয়ার জন্য এই চার দেশ জোরালো আহ্বান জানিয়েছে। বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের প্রধান এই জলপথটি বন্ধ থাকায় আন্তর্জাতিক বাজারে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তা নিরসনে তারা তেহরানের সহযোগিতা কামনা করেছে। একই সঙ্গে তারা বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে লেবাননের সার্বভৌমত্ব এবং আঞ্চলিক অখণ্ডতার প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা প্রদর্শনের ওপরও বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছে, যা মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে বড় ভূমিকা রাখবে।
বৈশ্বিক অর্থনীতিতে সম্ভাব্য ইতিবাচক প্রভাব
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ইউরোপের এই প্রভাবশালী চার দেশের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সবুজ সংকেত বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে। ইরান যদি এই শর্ত মেনে আইএইএ-এর পরিদর্শকদের পূর্ণ সহযোগিতা দেয়, তবে আন্তর্জাতিক বাজারে দেশটির জ্বালানি তেল ও গ্যাসের অবাধ প্রবেশাধিকার উন্মুক্ত হবে। এতে করে চলমান বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি ও জ্বালানি সংকট অনেকটাই কেটে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, ইউরোপের এই যৌথ প্রস্তাবের জবাবে তেহরানের পক্ষ থেকে কী ধরনের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া আসে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বার্তা এক্সপ্রেস