
বাংলাদেশের উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) স্তরের শিক্ষার মানকে সিঙ্গাপুরের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার সমমানের সঙ্গে তুলনা করা হয় বলে মন্তব্য করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, নীতি বাস্তবায়নে দুর্বলতা এবং শিক্ষাখাতে গত দুই দশকের ‘নৈরাজ্য’ এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী।
রোববার জাতীয় সংসদে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।
সংসদে শিক্ষার মান নিয়ে উদ্বেগ
ববি হাজ্জাজ বলেন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা খাতে অতীতে যে চরম অব্যবস্থাপনা ছিল, তার প্রভাব এখন স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান। এর ফলে উচ্চশিক্ষায় প্রবেশের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে।
তিনি বলেন, “অতীতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষায় যে চরম নৈরাজ্য চলেছে, তা এখন স্পষ্ট। যার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভর্তি পরীক্ষায় অনেক শিক্ষার্থী পাস পর্যন্ত করতে পারে না। এমনকি পার্শ্ববর্তী দেশ সিঙ্গাপুরে আমাদের দেশের উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) লেভেলকে তাদের ষষ্ঠ শ্রেণির সমমান হিসেবে তুলনা করা হয়।”
এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার কাঠামোগত দুর্বলতার দিকে ইঙ্গিত করেন।
শিক্ষাখাতে সংস্কার উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার শিক্ষাখাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে বড় ধরনের সংস্কার কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে প্রাথমিক শিক্ষার কারিকুলাম আধুনিকায়ন, শিক্ষক প্রশিক্ষণ উন্নয়ন, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং প্রশাসনিক সংস্কার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
তিনি বলেন, শিক্ষার মানোন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে, যা ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
শিক্ষা খাতকে সর্বোচ্চ বিনিয়োগ হিসেবে দেখার ঘোষণা
ববি হাজ্জাজ আরও বলেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে শিক্ষা খাতকে সর্বোচ্চ বিনিয়োগের ক্ষেত্র হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। সেই অনুযায়ী বাজেট বরাদ্দেও এ খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান এবং অর্থমন্ত্রীর দিকনির্দেশনায় শিক্ষা খাতে দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা খাতে বড় বরাদ্দ
তিনি দাবি করেন, এবারের বাজেটে শিক্ষা খাতে সবচেয়ে বড় বরাদ্দ রাখা হয়েছে, বিশেষ করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
তার ভাষায়, এই খাতকে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি শক্তিশালী শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা যায়।
শিক্ষা ব্যবস্থার চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
সংসদে দেওয়া বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী শিক্ষাব্যবস্থার বর্তমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন।
তিনি বলেন, শুধু অবকাঠামো উন্নয়ন নয়, বরং শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধি, পাঠ্যক্রম আধুনিকীকরণ এবং প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে একটি কার্যকর শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার বর্তমান অবস্থার একটি সমালোচনামূলক চিত্র উঠে আসে। একই সঙ্গে তিনি জানান, সরকার শিক্ষার মানোন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি ও কাঠামোগত সংস্কারের পথে এগোচ্ছে।
শিক্ষা খাতকে কেন্দ্র করে নেওয়া এই উদ্যোগগুলো সফল হলে ভবিষ্যতে দেশের মানবসম্পদ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।