
লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক হামলা বন্ধ করা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচিত সমঝোতা স্মারকের একটি ‘অবিচ্ছেদ্য অংশ’ বলে দাবি করেছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমনে লেবাননকে কেন্দ্রীয়ভাবে অন্তর্ভুক্ত করেই যেকোনো চূড়ান্ত সমঝোতা কার্যকর হবে।
সোমবার (১৬ জুন ২০২৬) রাজধানী তেহরানে এক সংবাদ সম্মেলনে এ মন্তব্য করেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল–জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
‘যুদ্ধ অবসান সমঝোতার অংশ’
সংবাদ সম্মেলনে ইসমাইল বাঘাই বলেন, লেবাননে যুদ্ধ পরিস্থিতি বন্ধ করা শুধু রাজনৈতিক অঙ্গীকার নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচিত সমঝোতা স্মারকের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ।
তিনি বলেন, “আমি আপনাদের এবং লেবাননের জনগণকে বলছি, লেবাননে যুদ্ধ অবসান ঘটানো এই সমঝোতা স্মারকের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ।”
ইরানি মুখপাত্র আরও বলেন, লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার বিষয়ে ইরান শুরু থেকেই গভীর আগ্রহ ও আন্তরিকতা দেখিয়েছে। তার দাবি, ভবিষ্যৎ লক্ষ্য অর্জনে তেহরানের অবস্থান ও ভূমিকা কাজের মাধ্যমেই প্রমাণিত হয়েছে।
কঠোর হুঁশিয়ারি তেহরানের
সংবাদ সম্মেলনে ইসমাইল বাঘাই সতর্ক করে বলেন, পরিস্থিতি প্রয়োজন হলে ইরান তার সব ধরনের কূটনৈতিক ও কৌশলগত উপায় ব্যবহার করবে।
তিনি বলেন, “যেকোনো মুহূর্তে প্রয়োজন হলে অন্য পক্ষগুলোকে তাদের দায়িত্ব পালনে বাধ্য করতে আমরা আমাদের সব ধরনের উপায় ব্যবহার করব।”
তার এই বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে নতুন করে কূটনৈতিক চাপ তৈরি করেছে বলে পর্যবেক্ষকদের ধারণা।
হিজবুল্লাহর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ
এদিকে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ইরানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
এক বিবৃতিতে হিজবুল্লাহ জানায়, যুদ্ধ অবসান সংক্রান্ত যেকোনো সমঝোতায় লেবাননকে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে ইরানের নেতৃত্ব, সশস্ত্র বাহিনী ও জনগণের ভূমিকা প্রশংসনীয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, লেবানন, এর জনগণ ও প্রতিরোধ যোদ্ধাদের প্রতি ইরানের অবিচল সমর্থনকে তারা গভীরভাবে স্বীকার করে।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতার অগ্রগতি
রয়টার্স ও আল–জাজিরার সূত্র অনুযায়ী, গত রোববার দিবাগত মধ্যরাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধবিরতি-সংক্রান্ত একটি সমঝোতা স্মারকে সম্মত হয়েছে বলে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়।
প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার কথা রয়েছে।
এ সমঝোতাকে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত প্রশমনের সম্ভাব্য গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যদিও এর বাস্তবায়ন নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে।
সংঘাত ও ক্ষয়ক্ষতির দাবি
রিপোর্টে বলা হয়, গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল একযোগে ইরানে হামলা শুরু করে। এরপর মার্চের শুরুতে হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের বিরুদ্ধে পাল্টা হামলায় যুক্ত হয় বলে দাবি করা হয়।
এই ধারাবাহিক সংঘাতে এখন পর্যন্ত লেবাননে সাড়ে তিন হাজারের বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে বলে বিভিন্ন সূত্রের দাবি। তবে এসব পরিসংখ্যান স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে একাধিকবার যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলেও তা পুরোপুরি কার্যকর হয়নি বলে জানা যায়। সর্বশেষও রাজধানী বৈরুতসহ দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
হামলা বন্ধের ঘোষণা হিজবুল্লাহর
হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা স্মারক নিশ্চিত হওয়ার পর থেকে তারা ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে কোনো হামলা চালায়নি।
তবে চলমান পরিস্থিতি কতটা স্থিতিশীল হবে, তা নিয়ে আঞ্চলিক রাজনীতি ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মধ্যে সংশয় রয়ে গেছে।