
ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে হার্ভে রেনারের নাম উচ্চারিত হলেই অনেকের চোখে ভেসে ওঠে কাতারের সেই অবিস্মরণীয় ম্যাচ। টানা ৩৬ ম্যাচ অপরাজিত থাকা আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্বকে চমকে দিয়েছিল সৌদি আরব, আর সেই অবিশ্বাস্য জয়ের নেপথ্যে ছিলেন ফরাসি কোচ হার্ভে রেনার।
বিশ্বকাপের ডাগআউটে আবারও দেখা যাচ্ছে তাঁকে। তবে এবার তিনি সৌদি আরবের নয়, দায়িত্ব নিয়েছেন তিউনিসিয়ার। টুর্নামেন্টের মাঝপথে কোচ পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর উত্তর আফ্রিকার দেশটি অভিজ্ঞ এই কোচের ওপর আস্থা রেখেছে।
কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ঐতিহাসিক জয়ের পরও সৌদি আরব শেষ পর্যন্ত গ্রুপ পর্ব পেরোতে পারেনি। এরপর রেনার সৌদি আরবের দায়িত্ব ছেড়ে ফ্রান্স নারী দলের কোচ হন। সেখানে তিনি আরেকটি অনন্য কীর্তি গড়েন—পুরুষ ও নারী উভয় বিশ্বকাপে ম্যাচ জেতা প্রথম কোচ হিসেবে নিজের নাম লেখান ইতিহাসে।
যদিও নারী বিশ্বকাপ এবং অলিম্পিক—দুই আসরেই ফ্রান্সের যাত্রা শেষ হয় কোয়ার্টার ফাইনালে। পরে আবার সৌদি আরবে ফিরে আসেন রেনার। তাঁর অধীনে দলটি ঘুরে দাঁড়ায় এবং বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়।
কিন্তু ফুটবলে সাফল্য সবসময় স্থায়ী হয় না। বিশ্বকাপ নিশ্চিত করার পরও কয়েকটি হতাশাজনক ফলাফলের কারণে তাঁকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয় সৌদি ফুটবল কর্তৃপক্ষ। এতে অনেকটাই আড়ালে চলে গিয়েছিলেন এই সফল কোচ।
তবে ভাগ্যের চাকা আবার ঘুরেছে। বিশ্বকাপে বড় ব্যবধানে পরাজয়ের পর নতুন কোচের সন্ধানে থাকা তিউনিসিয়া শেষ পর্যন্ত রেনারের দ্বারস্থ হয়। প্রস্তাব পাওয়ার পর দ্রুত দলের সঙ্গে যোগ দিতে সম্মতি দেন তিনি।
এখন সবার নজর তিউনিসিয়ার দিকে। আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে যেমন বিশ্বকে বিস্মিত করেছিলেন, তেমনি এবারও কি নতুন কোনো রূপকথা লিখতে পারবেন হার্ভে রেনার? উত্তর মিলবে মাঠের লড়াইয়েই।