
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে গত দেড় দশকের বেশি সময় ধরে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিয়োগ ও পদোন্নতি প্রক্রিয়া নিয়ে ওঠা অভিযোগ খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০০৯ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন নিয়োগ, পদোন্নতি, আপগ্রেডেশন এবং বেতন গ্রেড নির্ধারণের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি বা প্রশাসনিক অসঙ্গতি ঘটেছে কি না, তা যাচাই করা হবে।
এ বিষয়ে জারি করা এক প্রশাসনিক আদেশে বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তদন্ত কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। এ তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মো. সাইফুজ্জামান হিরোকে।
আজ থেকেই তদন্ত কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত তদন্ত কর্মকর্তাকে আগামী তিন মাসের মধ্যে সব তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করে উপাচার্যের কাছে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।
তদন্তের সুবিধার্থে প্রশাসনিক ভবনে একটি নির্দিষ্ট কার্যালয় বরাদ্দ করা হয়েছে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক, কর্মকর্তা বা কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলা এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র যাচাইয়ের ক্ষমতাও থাকবে তদন্ত দলের।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ, দপ্তর ও ইনস্টিটিউটকে তদন্ত কাজে সহযোগিতা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট নথি ও তথ্য দ্রুত সরবরাহের বিষয়েও প্রশাসনের পক্ষ থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া তদন্ত কার্যক্রমে সমন্বয় ও প্রশাসনিক সহায়তার দায়িত্বে রয়েছেন ডেপুটি রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ মশিরুল ইসলাম।
বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টদের মতে, দীর্ঘ সময়ের নিয়োগ ও পদোন্নতি প্রক্রিয়া পর্যালোচনার এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।