
ভারতের ছত্তিশগড় রাজ্যের কোরিয়া জেলায় বালু উত্তোলন নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে এক বিজেপি নেতাকে গাড়ির ভেতর পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনায় তাঁর দুই আত্মীয়সহ মোট তিনজন নিহত হয়েছেন। পুলিশ এটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হিসেবে বিবেচনা করছে।
ঘটনাটি নিয়ে পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং রাজনৈতিক মহলেও ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
ঘটনার সময় ও স্থান
গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সোনহাত তহসিলের কাটগোডি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। প্রায় ৬০ বছর বয়সী বিজেপি নেতা ভারত সিং তাঁর কয়েকজন আত্মীয়সহ একটি গাড়িতে করে যাচ্ছিলেন বলে জানা গেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পথে একটি ট্রাক দিয়ে তাদের গাড়িতে ধাক্কা দেওয়া হয়। এরপর গাড়িতে আগুন ধরে যায়, এবং ভেতরে থাকা যাত্রীরা আটকা পড়ে যান।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা: পরিকল্পিত হামলা
শুরুর দিকে পুলিশ ধারণা করেছিল, এটি দুর্ঘটনাজনিত অগ্নিকাণ্ড। তবে ফরেনসিক বিশ্লেষণ ও প্রাথমিক তদন্তে ভিন্ন চিত্র উঠে এসেছে।
একজন জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা জানান, প্রাথমিক তথ্য ও ফরেনসিক রিপোর্টে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে যে ভুক্তভোগীদের জীবন্ত পুড়িয়ে মারার উদ্দেশ্যে জ্বালানি ব্যবহার করা হয়েছিল।
তিনি বলেন, পূর্ণাঙ্গ ফরেনসিক প্রতিবেদন এখনো আসেনি, তবে এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
নিহত ও আহতদের বিবরণ
এই ঘটনায়—
ভারত সিং (প্রায় ৬০) ঘটনাস্থলেই মারা যান
তাঁর ভাই নগেন্দ্র সিং (৫৩) গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে মারা যান
বীরেন্দ্র প্রতাপ সিং (৩২) নামের আরেক আত্মীয়কে হামলার পর পিটিয়ে হত্যা করা হয়
অর্থাৎ মোট তিনজন নিহত হন এবং ঘটনাটি একাধিক ধাপে সংঘটিত সহিংস আক্রমণ হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।
গ্রেপ্তার ও তদন্ত
পুলিশ ইতিমধ্যে একই পরিবারের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—বিশাল, সত্যকুমার, অক্ষয় ও মহেন্দর।
তদন্তকারীরা মনে করছেন, বালু উত্তোলন সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধ থেকেই এই হামলার সূত্রপাত হতে পারে। স্থানীয় পর্যায়ে অবৈধ বালু উত্তোলন নিয়ে প্রভাব ও আধিপত্যের লড়াই দীর্ঘদিন ধরে চলছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
ঘটনার পর বিরোধী দল কংগ্রেস রাজ্য সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তাদের অভিযোগ, রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় ছত্তিশগড়ে অবৈধ বালু উত্তোলনের কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে চলছে, যা এ ধরনের সহিংসতার পরিবেশ তৈরি করছে।
এদিকে ছত্তিশগড়ের মুখ্যমন্ত্রী বিষ্ণু দেও সাই বলেন, “কোনো অপরাধীকেই ছাড় দেওয়া হবে না।” তিনি দ্রুত ও কঠোর তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন বলে প্রশাসন জানিয়েছে।
পটভূমি: বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা
ছত্তিশগড়ের বিভিন্ন এলাকায় নদী ও খাল থেকে বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে প্রভাবশালী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ্ব চলে আসছে। অবৈধ বালু ব্যবসা নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে সহিংসতার ঘটনাও মাঝেমধ্যে ঘটে থাকে।
তদন্তকারীদের ধারণা, এই হত্যাকাণ্ডও সেই অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংঘাতেরই একটি সহিংস পরিণতি।
তদন্তের অগ্রগতি
পুলিশ জানিয়েছে, ফরেনসিক রিপোর্ট এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের জবানবন্দি বিশ্লেষণ করে পুরো ঘটনার পুনর্গঠন করা হচ্ছে। ঘটনাটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হিসেবে প্রমাণিত হলে আরও গ্রেপ্তার হতে পারে।
বর্তমানে পুরো এলাকা পুলিশি নজরদারিতে রয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
এই ঘটনায় ছত্তিশগড়ের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অঙ্গনে নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে, বিশেষ করে অবৈধ বালু উত্তোলন ও স্থানীয় ক্ষমতার দ্বন্দ্ব নিয়ে।