
ফৌজদারি মামলার তদন্ত চলাকালে আসামি কি তার দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির প্রত্যয়িত অনুলিপি সংগ্রহ করতে পারবেন—এই গুরুত্বপূর্ণ আইনি প্রশ্নে শুনানি আপাতত স্থগিত রেখেছেন হাইকোর্টের বৃহত্তর বেঞ্চ। আগামী ২৫ জুন এ বিষয়ে পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
তিন বিচারপতির সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে বিষয়টি উত্থাপিত হলে আদালত শুনানি মুলতবি করার সিদ্ধান্ত নেন। মামলাটি শুধু একটি নির্দিষ্ট আবেদন নয়, বরং ফৌজদারি বিচারব্যবস্থায় আসামির অধিকার এবং তদন্তের স্বার্থের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার প্রশ্নও সামনে এনেছে।
আবেদনকারীর আইনজীবীরা আদালতে যুক্তি তুলে ধরেন যে, মূল মামলার বিচারিক কার্যক্রম ইতোমধ্যে অনেক দূর এগিয়ে গেছে, এমনকি মামলার নিষ্পত্তিও হয়ে থাকতে পারে। ফলে এখন প্রশ্ন উঠেছে, মামলার প্রেক্ষাপটে জারি করা রুল এবং বৃহত্তর বেঞ্চে পাঠানো আইনি রেফারেন্সের শুনানি আদৌ চলবে কি না।
ঘটনার সূত্রপাত ২০২০ সালে কুমিল্লার একটি হত্যা মামলাকে কেন্দ্র করে। ওই মামলার এক আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার পর তার প্রত্যয়িত অনুলিপি চেয়ে আবেদন করেন। নিম্ন আদালতে আবেদনটি গ্রহণ না হওয়ায় তিনি পরে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন।
প্রাথমিক শুনানি শেষে হাইকোর্ট এ বিষয়ে রুল জারি করে এবং সংশ্লিষ্ট আদেশের বৈধতা নিয়ে ব্যাখ্যা জানতে চান। পরবর্তী সময়ে মামলাটি শুনানির সময় একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি প্রশ্ন সামনে আসে—তদন্ত প্রতিবেদন জমা হওয়ার আগেই আসামিকে জবানবন্দির কপি দেওয়া উচিত কি না।
এ প্রসঙ্গে অতীতের একটি বিচারিক সিদ্ধান্তও আলোচনায় আসে, যেখানে বলা হয়েছিল যে তদন্ত সম্পন্ন হওয়ার আগে এমন নথি সরবরাহ করলে তদন্ত প্রক্রিয়া ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকতে পারে। এই কারণেই বিষয়টিকে বৃহত্তর বেঞ্চে পাঠানোর প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়।
বর্তমানে আদালতের সামনে মূল প্রশ্ন হলো, যেহেতু সংশ্লিষ্ট মামলার কার্যক্রম প্রায় শেষ পর্যায়ে বা নিষ্পত্তি হয়ে থাকতে পারে, তাই এই আইনি রেফারেন্সের শুনানি অব্যাহত রাখা হবে কি না। আগামী ২৫ জুনের শুনানিতে এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে আইনজীবীরা মনে করছেন।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রশ্নের নিষ্পত্তি ভবিষ্যতে ফৌজদারি মামলায় আসামিদের নথিপত্র পাওয়ার অধিকার এবং তদন্ত সংস্থার কার্যক্রমের ওপর সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলতে পারে।