
পাবলিক পরীক্ষার ফলাফল বেআইনিভাবে পরিবর্তন, প্রশ্নফাঁস, জাল সনদ তৈরি এবং প্রযুক্তিনির্ভর পরীক্ষাসংক্রান্ত অপরাধ দমনে আইন আরও কঠোর করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে নতুন সংশোধনী আইনের খসড়া অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।
প্রস্তাবিত আইনে পাবলিক পরীক্ষার ফলাফল অবৈধভাবে পরিবর্তনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পাশাপাশি পরীক্ষাকেন্দ্রিক সংঘবদ্ধ অপরাধ বা জালিয়াতি চক্র পরিচালনার ক্ষেত্রেও কঠোর শাস্তির বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনুমোদিত খসড়ায় উল্লেখ করা হয়েছে, বর্তমান প্রযুক্তিনির্ভর যুগে পরীক্ষাসংক্রান্ত অপরাধের ধরন বদলে গেছে। অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, ডিজিটাল ডিভাইস এবং সাইবার মাধ্যম ব্যবহার করে বিভিন্ন অনিয়ম সংঘটিত হচ্ছে। এসব নতুন ধরনের অপরাধ আইনের আওতায় আনতেই সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া বৈঠকে নতুন একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ‘বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০২৬’-এর খসড়াও নীতিগত অনুমোদন পেয়েছে। এর মাধ্যমে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিকেন্দ্রিক কাঠামোর বাইরে গিয়ে বিভিন্ন বিষয়ে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ সৃষ্টি করার পরিকল্পনা রয়েছে।
মন্ত্রিসভা একই সঙ্গে ‘জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬’-এর খসড়াও অনুমোদন করেছে। নতুন আইনে অনলাইন ও অফলাইন উভয় ধরনের জুয়ার কার্যক্রমকে আইনি কাঠামোর মধ্যে এনে নিয়ন্ত্রণের প্রস্তাব করা হয়েছে। ডিজিটাল গ্যাম্বলিং প্ল্যাটফর্ম, অনলাইন বাজি, ম্যাচ ফিক্সিং, ডিজিটাল ওয়ালেটসহ আধুনিক জুয়ার বিভিন্ন রূপকে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে এবং অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।
এছাড়া মাদকবিরোধী কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করতে ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এর খসড়াও অনুমোদন পেয়েছে। এতে মাদকসংক্রান্ত মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন, সাইবার মাধ্যমে সংঘটিত মাদক অপরাধ দমন এবং সীমান্ত এলাকায় মাদক পাচার প্রতিরোধে নতুন ব্যবস্থা যুক্ত করার প্রস্তাব রয়েছে।
সরকারের মতে, প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারের ফলে অপরাধের ধরন পরিবর্তিত হওয়ায় বিদ্যমান আইনগুলোকে সময়োপযোগী করা জরুরি হয়ে পড়েছে। নতুন এসব আইন কার্যকর হলে শিক্ষা, জনশৃঙ্খলা ও মাদক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় আরও জবাবদিহি ও কঠোরতা নিশ্চিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।