
সৃজনশীল খাতের ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ব্রিটিশ কাউন্সিলের ‘কানেকশনস থ্রু কালচার (সিটিসি) গ্র্যান্টস ২০২৬’ কর্মসূচির আবেদন শুরু হয়েছে। এ উদ্যোগের আওতায় বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৩৫টি অংশগ্রহণকারী দেশের শিল্পী, সাংস্কৃতিক কর্মী ও সৃজনশীল প্রতিষ্ঠানের মধ্যে যৌথ প্রকল্প, আন্তসাংস্কৃতিক বিনিময় এবং দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব তৈরিতে সিড ফান্ড অনুদান দেওয়া হবে।
ব্রিটিশ কাউন্সিলের এই ফ্ল্যাগশিপ কর্মসূচির লক্ষ্য হলো যুক্তরাজ্য ও বিভিন্ন দেশের সৃজনশীল খাতের পেশাজীবীদের একসঙ্গে কাজ করার সুযোগ তৈরি করা এবং নতুন ধরনের সাংস্কৃতিক উদ্যোগকে উৎসাহ দেওয়া।
বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্যের সৃজনশীল সহযোগিতায় গুরুত্ব
ব্রিটিশ কাউন্সিল বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর স্টিফেন ফোর্বস বলেন, আন্তসাংস্কৃতিক বিনিময়ের মাধ্যমে ইতিবাচক ও দীর্ঘস্থায়ী পরিবর্তন আনার সম্ভাবনার ওপর ভিত্তি করেই ব্রিটিশ কাউন্সিল তার কার্যক্রম পরিচালনা করে।
তিনি বলেন, ‘কানেকশনস থ্রু কালচার’ গ্র্যান্টস শিল্পী ও সৃজনশীল পেশাজীবীদের একসঙ্গে কাজ করার এবং নতুন কিছু সৃষ্টির সুযোগ দেয়। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের শিল্প ও সংস্কৃতি খাতের মানুষের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি ও অর্থবহ সহযোগিতার সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
গত বছর বাংলাদেশের সাত প্রকল্প পেয়েছিল অনুদান
ব্রিটিশ কাউন্সিল জানিয়েছে, গত বছর সিটিসি গ্র্যান্টস কর্মসূচির আওতায় বিশ্বের ১৯টি দেশের মোট ১২৭টি প্রকল্প অনুদান পেয়েছিল। এর মধ্যে বাংলাদেশের সাতটি প্রকল্প ছিল।
২০২৬ সালের কর্মসূচিতে সৃজনশীল খাতের বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান আবেদন করতে পারবে। এর মধ্যে রয়েছেন—
সৃজনশীল পেশাজীবী
সাংস্কৃতিক কর্মী
শিল্পী
ক্রিয়েটিভ হাব বা সৃজনশীল কেন্দ্র
বিভিন্ন উৎসব আয়োজক প্রতিষ্ঠান
আন্তর্জাতিক শিল্প প্রদর্শনী বা বিয়েনাল আয়োজক
সাংস্কৃতিক সংগঠন
তবে আবেদনকারী প্রকল্পে যুক্তরাজ্যভিত্তিক অন্তত একজন অংশীদার এবং বাংলাদেশসহ অংশগ্রহণকারী কোনো দেশে আইনগতভাবে প্রতিষ্ঠিত একটি অংশীদার প্রতিষ্ঠান থাকা বাধ্যতামূলক।
কোন ধরনের প্রকল্পে পাওয়া যাবে অনুদান
সিটিসি গ্র্যান্টস ২০২৬-এর আওতায় বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের যৌথ সৃজনশীল উদ্যোগের জন্য আবেদনকারীরা সর্বোচ্চ ২৪ লাখ ৪৫ হাজার টাকা পর্যন্ত অনুদানের জন্য আবেদন করতে পারবেন।
অনুদানের আওতায় আসতে পারে—
যৌথভাবে বাস্তবায়িত সৃজনশীল প্রকল্প
শিল্পী ও পেশাজীবীদের রেসিডেন্সি প্রোগ্রাম
গবেষণা ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রম
যৌথ প্রদর্শনী
সাংস্কৃতিক পরিবেশনা
জনসম্পৃক্ত কর্মসূচি
আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক বিনিময় কার্যক্রম
আবেদন সহায়তায় চারটি ওয়েবিনার
আবেদনকারীদের সঠিকভাবে আবেদন প্রস্তুত করতে সহায়তার জন্য ব্রিটিশ কাউন্সিল চারটি তথ্যবহুল ওয়েবিনারের আয়োজন করবে। এসব সেশনে সিটিসি গ্র্যান্টসের শর্তাবলি, আবেদন প্রক্রিয়া এবং মানসম্মত প্রস্তাব তৈরির বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হবে।
ওয়েবিনারে অংশ নিতে আগ্রহীদের আগে নিবন্ধন করতে হবে।
ওয়েবিনারের সময়সূচি
ব্রিটিশ কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, ওয়েবিনারের সময়সূচি হলো—
৩০ জুন ২০২৬
বাংলাদেশ সময় দুপুর ১টা থেকে আড়াইটা পর্যন্ত সাধারণ অধিবেশন
রাত ৮টা থেকে সাড়ে ৯টা পর্যন্ত সাধারণ অধিবেশন
দুটি অধিবেশনেই ব্রিটিশ ইশারা ভাষা (বিএসএল) সুবিধা থাকবে।
১ জুলাই ২০২৬
বিকেল ৩টা থেকে সাড়ে ৪টা পর্যন্ত সেশন
এই সেশনে ভিজ্যুয়াল আর্টস, স্থাপত্য, নকশা, ফ্যাশন, কারুশিল্পভিত্তিক উৎসব এবং দ্বিবার্ষিক আন্তর্জাতিক শিল্প প্রদর্শনী (বিয়েনাল) নিয়ে আলোচনা হবে।
রাত ৮টা থেকে সাড়ে ৯টা পর্যন্ত সেশন
এই অধিবেশনে ডিজিটাল আর্টস, এক্সটেন্ডেড রিয়েলিটি (এক্সআর), ইমারসিভ এক্সপেরিয়েন্স, গেমিং এবং ভিজ্যুয়াল আর্টস, স্থাপত্য, নকশা ও ফ্যাশন খাতের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হবে।
আবেদনের শেষ সময় ১৩ আগস্ট
ব্রিটিশ কাউন্সিল জানিয়েছে, আবেদন করার আগে আগ্রহীদের ২০২৬ সালের আবেদনসংক্রান্ত টুলকিট, নমুনা আবেদনপত্র এবং বহুল জিজ্ঞাসিত প্রশ্নোত্তর (এফএকিউ) দেখে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এসব তথ্য ও প্রয়োজনীয় নথি ব্রিটিশ কাউন্সিলের ওয়েবসাইট থেকে সংগ্রহ করা যাবে।
সিটিসি গ্র্যান্টস ২০২৬-এর জন্য আবেদন জমা দেওয়ার শেষ সময় আগামী ১৩ আগস্ট ২০২৬, বৃহস্পতিবার, বাংলাদেশ সময় ভোর ৪টা ৫৯ মিনিট।
সৃজনশীল খাতের ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য এ অনুদান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, নতুন ধারণার বিকাশ এবং বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের সাংস্কৃতিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।