
নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দুর্দান্ত এক জয় তুলে নিয়ে নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। ইংল্যান্ডের সাউদাম্পটনে অনুষ্ঠিত ম্যাচে পাকিস্তানকে ২৩ রানে পরাজিত করে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের এক আসরে দ্বিতীয় জয় পেয়েছে নিগার সুলতানার দল।
ম্যাচের শেষ বলে পাকিস্তানের তাসমিয়া রুবাব আউট হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই শুরু হয় বাংলাদেশের উদ্যাপন। উইকেটরক্ষক ও অধিনায়ক নিগার সুলতানা সতীর্থদের নিয়ে মাঠে উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠেন। কারণ এই জয় শুধু দুই পয়েন্টই এনে দেয়নি, গড়েছে নতুন ইতিহাসও।
১২৪ রানের লক্ষ্য নিয়ে ব্যাট করতে নেমে পাকিস্তান শুরুতে বেশ আত্মবিশ্বাসী ছিল। উদ্বোধনী জুটিতে কোনো উইকেট না হারিয়ে ৩৯ রান তোলে তারা। তবে এরপরই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন বাংলাদেশের বোলাররা। বাঁহাতি স্পিনার নাহিদা আক্তার পরপর দুটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট নিয়ে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলে দেন।
২৩ রান করা গুল ফিরোজ এবং ২৫ রান করা মুনিবা আলীকে ফিরিয়ে দিয়ে পাকিস্তানের শক্ত ভিত নড়বড়ে করে দেন নাহিদা। পরে আয়েশা জাফর কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও সানজিদা আক্তারের আঘাতে সেই সম্ভাবনাও শেষ হয়ে যায়। একের পর এক উইকেট হারিয়ে পাকিস্তান আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি।
পাকিস্তানের ইনিংসে ফাতিমা সানা ছাড়া আর কোনো ব্যাটার উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে পারেননি। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে তারা সংগ্রহ করে মাত্র ১০০ রান।
এর আগে টসে জিতে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশও শুরুতে বিপদে পড়ে। মাত্র ১৩ রান তুলতেই হারায় ৩ উইকেট। এমন পরিস্থিতিতে সোবহানা মোস্তারি ও অধিনায়ক নিগার সুলতানা দায়িত্বশীল ব্যাটিং করে দলকে ম্যাচে ফেরান।
সোবহানা ২২ রান করে ফিরলেও নিগার ৩৬ রানের কার্যকর ইনিংস খেলেন। তবে বাংলাদেশের সংগ্রহকে লড়াইয়ের পুঁজি এনে দেন স্বর্ণা আক্তার। শেষ দিকে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করে তিনি ২২ বলে অপরাজিত ৩৯ রান করেন। তাঁর ইনিংসেই বাংলাদেশ ১২৩ রানের প্রতিযোগিতামূলক স্কোর গড়ে।
টুর্নামেন্টে এটি বাংলাদেশের তৃতীয় ম্যাচে দ্বিতীয় জয়। এর আগে তারা নেদারল্যান্ডসকে হারিয়েছিল। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে হারলেও পাকিস্তানের বিরুদ্ধে জয়ের ফলে দলটির সেমিফাইনালের আশা টিকে রয়েছে।
চার পয়েন্ট নিয়ে বর্তমানে ‘এ’ গ্রুপের তৃতীয় স্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। গ্রুপপর্বে এখনও দুটি ম্যাচ বাকি আছে, যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকা। শেষ দুই ম্যাচে ভালো ফল করতে পারলে প্রথমবারের মতো সেমিফাইনালে ওঠার স্বপ্নও বাস্তবে রূপ নিতে পারে।