
গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে প্রয়োজনে জনগণের দ্বারে দ্বারে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। তিনি বলেছেন, রাজনৈতিক দলগুলো যদি এ দাবি থেকে পিছিয়ে যায়, তাহলে তাঁর দল এককভাবেই মাঠে নামবে এবং জনগণকে সঙ্গে নিয়ে এ দাবির বাস্তবায়নে আন্দোলন গড়ে তুলবে।
শুক্রবার জুমার নামাজের পর রাজধানীর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম–এর পূর্ব প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক নাগরিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সমাবেশের আয়োজন করে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের পল্টন জোন শাখা। এতে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জ্বালানি তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির বিরুদ্ধে অবস্থান তুলে ধরা হয়।
‘জনগণের কাছে গিয়ে দাবি আদায় করতে হবে’
মামুনুল হক বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়নের প্রশ্নে কোনো রাজনৈতিক দল পিছিয়ে গেলে আন্দোলন থেমে থাকবে না। তাঁর ভাষায়, “যদি সব রাজনৈতিক দল এই দাবি থেকে সরে যায়, তাহলে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস একাই জনগণের দুয়ারে দুয়ারে গিয়ে এই দাবি তুলে ধরবে।”
তিনি আরও বলেন, গণতান্ত্রিক অধিকার ও জনরায়ের বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।
‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হলে বিপদ বাড়বে’
সমাবেশে মামুনুল হক বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে ব্যর্থ হলে দেশে আবারও রাজনৈতিক অস্থিরতা ও ফ্যাসিবাদী প্রবণতা ফিরে আসতে পারে।
তিনি বলেন, “রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করতে হবে। দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জনগণের অধিকার রক্ষায় কোনো ধরনের আধিপত্যবাদ মেনে নেওয়া হবে না।”
‘সনদ নিয়ে প্রতারণার অভিযোগ’
জুলাই সনদ প্রসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, স্বাক্ষরের আগে রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনা হয়েছে, যা অনেক অংশগ্রহণকারী দলের অজানা ছিল।
মামুনুল হক দাবি করেন, জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় যখন রাজনৈতিক দলগুলো সনদে স্বাক্ষরের জন্য প্রস্তুত ছিল, তখন শেষ মুহূর্তে একটি নতুন ধারা যুক্ত করা হয়। সেই ধারায় বলা হয়, নির্বাচনের পর ক্ষমতায় আসা দল তাদের নির্বাচনী ইশতেহারের মাধ্যমে সনদ বাস্তবায়ন করতে পারবে, যেখানে ভিন্নমত (নোট অব ডিসেন্ট) বিবেচনায় রাখা হবে।
তাঁর মতে, এই পরিবর্তন রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আস্থার ঘাটতি তৈরি করেছে এবং বিষয়টি “জুলাইয়ের যোদ্ধাদের” অজানা ছিল।
রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ইস্যুতে সমালোচনা
সমাবেশে জ্বালানি তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি এবং সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। বক্তারা বলেন, সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা জনদুর্ভোগ আরও বাড়াচ্ছে।
সমাবেশে অন্যান্য নেতাদের বক্তব্য
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহকারী সাধারণ সম্পাদক মাওলানা সালেহ উদ্দীন কাজীর সভাপতিত্বে এবং যুবনেতা মাহদি হাসান সিকদারের সঞ্চালনায় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
এতে আরও বক্তব্য দেন দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুর রহমান, মাওলানা ফয়সাল আহমদ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা ছানাউল্লাহ আমিনী এবং মাওলানা মুহাম্মাদ রাকীবুল ইসলামসহ অন্যান্য নেতারা।
বক্তারা গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জনস্বার্থ রক্ষা এবং রাজনৈতিক সংস্কারের দাবিকে সামনে রেখে সংগঠনের সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদারের আহ্বান জানান।