
দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে মুক্তির দিনক্ষণ চূড়ান্ত হলো দক্ষিণ ভারতীয় সুপারস্টার যশের বহুল আলোচিত সিনেমা ‘টক্সিক: আ ফেয়ারিটেল ফর গ্রোন-আপস’-এর। নির্মাতাদের ঘোষণা অনুযায়ী, ছবিটি বিশ্বব্যাপী মুক্তি পাবে আগামী ২৬ আগস্ট।
সাধারণত ভারতীয় বড় বাজেটের সিনেমা শুক্রবার মুক্তি পেলেও এবার ভিন্ন পথ বেছে নিয়েছেন প্রযোজকেরা। সপ্তাহের মাঝামাঝি দিনে মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে একাধিক উৎসব ও সরকারি ছুটির হিসাব। ফলে টানা কয়েক দিনের ছুটিতে দর্শক উপস্থিতি বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
মুক্তির ঘোষণা উপলক্ষে প্রকাশ করা হয়েছে ছবির নতুন পোস্টার। সেখানে যশকে দুটি ভিন্ন চরিত্রের আভাসে দেখা গেছে। জানা গেছে, ছবিতে তাঁর চরিত্রের নাম ‘রায়া’ এবং ‘টিকিট’। পোস্টার প্রকাশের পর থেকেই ভক্তদের মধ্যে শুরু হয়েছে নানা জল্পনা-কল্পনা।
ছবিটি প্রথম দেখায় অপরাধজগতের গল্প মনে হলেও নির্মাতাদের দাবি, এর বিষয়বস্তু অনেক বেশি গভীর। যশ নিজেও জানিয়েছেন, এতে শুধু অ্যাকশন বা সংঘর্ষ নয়, মানবমনের জটিলতা, নৈতিক সংকট এবং আবেগের নানা স্তর তুলে ধরা হয়েছে। তাই এটি প্রচলিত গ্যাংস্টার চলচ্চিত্রের গণ্ডি ছাড়িয়ে ভিন্ন অভিজ্ঞতা দিতে পারে।
‘টক্সিক’কে যশের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় প্রকল্পগুলোর একটি হিসেবে দেখা হচ্ছে। সিনেমাটি একাধিক ভাষায় মুক্তির পরিকল্পনা করা হয়েছে। কন্নড় ভাষার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক দর্শকদের কথা মাথায় রেখে ইংরেজিতেও নির্মাণ করা হয়েছে ছবির সংস্করণ। পরে বিভিন্ন ভারতীয় ভাষায় ডাব করে মুক্তি দেওয়া হবে।
গীতু মোহনদাস পরিচালিত এই ছবিতে যশের সঙ্গে অভিনয় করেছেন নয়নতারা, কিয়ারা আদভানি, হুমা কুরেশি, রুক্মিণী বসন্ত এবং তারা সুতারিয়ার মতো জনপ্রিয় শিল্পীরা। ‘কেজিএফ’-এর পর যশের সবচেয়ে বড় উদ্যোগ হিসেবে ছবিটি ইতিমধ্যেই ব্যাপক আলোচনায় রয়েছে।
ছবিটি মুক্তির আগে একাধিকবার সময়সূচি পরিবর্তনের কারণে আলোচনায় আসে। শুরুতে ২০২৫ সালের এপ্রিলে মুক্তির পরিকল্পনা থাকলেও নির্মাণকাজ শেষ না হওয়ায় তা পিছিয়ে যায়। পরে নতুন তারিখ ঘোষণা করা হলেও বিভিন্ন কারিগরি ও পরিকল্পনাগত কারণে আবারও পরিবর্তন আনতে হয়।
চলচ্চিত্র-সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, পোস্ট-প্রোডাকশনের কিছু অংশ আরও উন্নত করার জন্য অতিরিক্ত সময় নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ভিজ্যুয়াল ইফেক্ট ও শব্দ ব্যবস্থার মান আরও উন্নত করার দিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
মুক্তির আগেই ছবির টিজার ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দেয়। টিজারে কিছু ঘনিষ্ঠ দৃশ্য ও সহিংসতার উপস্থাপন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন সংগঠন আপত্তি তোলে এবং আনুষ্ঠানিক অভিযোগও জমা পড়ে।
সমালোচকদের মতে, কিছু দৃশ্য দর্শকদের একাংশের কাছে আপত্তিকর মনে হতে পারে। অন্যদিকে সমর্থকদের দাবি, ছবির গল্প ও চরিত্রের প্রেক্ষাপট বিবেচনা না করে আগেভাগে বিচার করা ঠিক নয়।
সব বিতর্ক, বিলম্ব এবং আলোচনার পর এখন দর্শকদের অপেক্ষা শুধু একটি বিষয়েই—পর্দায় ‘টক্সিক’ কতটা বিস্ফোরণ ঘটাতে পারে। যশের ভক্তরা আশা করছেন, ছবিটি তাঁর ক্যারিয়ারে আরেকটি বড় মাইলফলক হয়ে উঠবে।