
রাশিয়ার কৌশলগত ক্ষেপণাস্ত্রবাহী বোমারু বিমান টিইউ–১৬০ (Tu-160) ব্যারেন্টস সাগর ও নরওয়েজিয়ান সাগরের ওপর দিয়ে আন্তর্জাতিক আকাশসীমায় প্রায় ১৬ ঘণ্টা টানা উড়েছে বলে জানিয়েছে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। দীর্ঘ এ ফ্লাইটে বিমানটির আকাশে জ্বালানি ভরার (এয়ার-টু-এয়ার রিফুয়েলিং) সক্ষমতাও পরীক্ষা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) ভোরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানানো হয়।
দীর্ঘ দূরত্বের টহল মিশন
রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এটি ছিল একটি নিয়মিত কৌশলগত টহল মিশনের অংশ। টিইউ–১৬০ বোমারু বিমানটি আর্কটিক অঞ্চলের ব্যারেন্টস সাগর এবং নরওয়েজিয়ান সাগরের আন্তর্জাতিক আকাশসীমায় দীর্ঘ সময় ধরে উড়ান পরিচালনা করে।
এই মিশনের মাধ্যমে রাশিয়ার দূরপাল্লার কৌশলগত বিমান সক্ষমতা এবং দীর্ঘ সময় আকাশে অবস্থান করার কার্যকারিতা যাচাই করা হয়েছে বলে জানানো হয়।
এয়ার রিফুয়েলিং সক্ষমতার পরীক্ষা
ফ্লাইট চলাকালীন বোমারু বিমানটির আকাশে জ্বালানি গ্রহণের সক্ষমতা (এয়ার-টু-এয়ার রিফুয়েলিং) পরীক্ষা করা হয়। এই প্রযুক্তি কৌশলগত বোমারু বিমানকে দীর্ঘ দূরত্বে অভিযান পরিচালনার সুযোগ দেয়, যা সামরিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
রাশিয়ার দাবি অনুযায়ী, এই সক্ষমতা তাদের দূরপাল্লার অভিযান পরিচালনার প্রস্তুতিকে আরও শক্তিশালী করবে।
মিগ–৩১ যুদ্ধবিমানের সঙ্গে নিরাপত্তা কভার
টিইউ–১৬০ বোমারু বিমানের সঙ্গে রাশিয়ার মিগ–৩১ যুদ্ধবিমানও এই মিশনে অংশ নেয় বলে জানানো হয়েছে। ফ্লাইট চলাকালে একাধিক সময় বিদেশি যুদ্ধবিমানের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়, যা বোমারু বিমানটিকে অনুসরণ বা পর্যবেক্ষণ করছিল।
তবে এসব যুদ্ধবিমান কোন দেশের ছিল, সে বিষয়ে রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আর্কটিক অঞ্চলে কৌশলগত উপস্থিতি
রাশিয়ার উত্তরাঞ্চলে ন্যাটো সদস্যদেশ নরওয়ে ও ফিনল্যান্ডের সীমান্ত অবস্থিত। ফলে এই অঞ্চলে রাশিয়ার সামরিক টহল এবং বিমান চলাচল আন্তর্জাতিকভাবে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
বিশ্লেষকদের মতে, আর্কটিক অঞ্চলে কৌশলগত বোমারু বিমান মোতায়েন এবং দীর্ঘ সময়ের টহল ফ্লাইট রাশিয়ার সামরিক সক্ষমতা প্রদর্শনের অংশ হিসেবে দেখা হয়।
টিইউ–১৬০ বিমান সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত ধারণা
টিইউ–১৬০ হলো রাশিয়ার অন্যতম আধুনিক কৌশলগত সুপারসনিক বোমারু বিমান, যা দীর্ঘ দূরত্বে পারমাণবিক ও প্রচলিত ক্ষেপণাস্ত্র বহনে সক্ষম। এই বিমান সাধারণত উচ্চগতির এবং দীর্ঘ সময় আকাশে অবস্থান করতে সক্ষম কৌশলগত অভিযান পরিচালনায় ব্যবহৃত হয়।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা বাহিনী নিয়মিতভাবেই এ ধরনের দীর্ঘপাল্লার টহল পরিচালনা করে থাকে, যা তাদের প্রতিরক্ষা প্রস্তুতির অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়।
আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপট
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ইউরোপের উত্তরাঞ্চল ও আর্কটিক এলাকায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। ন্যাটো এবং রাশিয়ার মধ্যে আকাশসীমা পর্যবেক্ষণ ও টহল ফ্লাইট নিয়ে প্রায়ই নজরদারি ও প্রতিক্রিয়ার ঘটনা ঘটছে।
তবে রাশিয়ার পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, এসব ফ্লাইট আন্তর্জাতিক আইন মেনে পরিচালিত নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও টহল কার্যক্রমের অংশ।