
ডিপ্লোমা ইন মেডিকেল টেকনোলজি (ডেন্টাল) সনদধারীদের নিবন্ধন প্রদান এবং ব্যক্তিগতভাবে চিকিৎসাসেবা চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি সংক্রান্ত হাইকোর্টের এক দশক আগের রায় বাতিল করেছেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত। আপিল বিভাগের সাম্প্রতিক এই সিদ্ধান্তের ফলে ডেন্টাল ডিপ্লোমাধারীরা আর ব্যক্তিগত প্র্যাকটিস পরিচালনা করতে পারবেন না।
বুধবার প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) করা আপিল গ্রহণ করে এই রায় দেন। সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা জানিয়েছেন, এর মাধ্যমে হাইকোর্টের পূর্ববর্তী নির্দেশনা কার্যকারিতা হারিয়েছে।
মামলার নথি অনুযায়ী, ডিপ্লোমা ইন মেডিকেল টেকনোলজি (ডেন্টাল) ডিগ্রিধারীদের স্বীকৃতি ও নিবন্ধন সংক্রান্ত বিষয়ে পদক্ষেপ না নেওয়ার অভিযোগ তুলে বাংলাদেশ ডেন্টাল পরিষদের পক্ষ থেকে ২০১৬ সালে একটি রিট আবেদন করা হয়। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট রুল জারি করেন এবং পরে চূড়ান্ত শুনানি শেষে আবেদনকারীদের পক্ষে রায় দেন।
হাইকোর্টের ওই সিদ্ধান্তে অসন্তুষ্ট হয়ে ২০১৭ সালে বিএমডিসি আপিল দায়ের করে। পরবর্তীতে বিডিএস ডিগ্রিধারী দন্তচিকিৎসকদের পক্ষ থেকেও একজন প্রতিনিধি মামলায় যুক্ত হন। দীর্ঘ শুনানি শেষে আপিল বিভাগ হাইকোর্টের রায় বাতিল করে বিএমডিসির আপিল মঞ্জুর করেন।
শুনানিকালে বিএমডিসির পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান খান ও কাজী এরশাদুল আলম আদালতে বক্তব্য উপস্থাপন করেন। অন্যদিকে বিডিএস ডিগ্রিধারী দন্তচিকিৎসকদের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম এবং আইনজীবী মো. আনোয়ার হোসেন। রিট আবেদনকারীদের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির ও আইনজীবী সৈয়দা নাসরিন।
রায়ের পর মোস্তাফিজুর রহমান খান বলেন, হাইকোর্ট পূর্বে ডেন্টাল ডিপ্লোমাধারীদের চিকিৎসক হিসেবে নিবন্ধন দেওয়া এবং ব্যক্তিগত চিকিৎসাসেবা পরিচালনার সুযোগ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তবে আপিল বিভাগের সর্বশেষ রায়ের ফলে সেই নির্দেশনা আর বহাল থাকছে না। ফলে ডিপ্লোমা ইন মেডিকেল টেকনোলজি (ডেন্টাল) সনদধারীরা ব্যক্তিগত প্র্যাকটিস পরিচালনার আইনগত সুযোগ হারালেন।