
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশ গবেষণা ইনস্টিটিউট-এ ২০২৬–২৭ শিক্ষাবর্ষে ফেলোশিপসহ এমফিল ও পিএইচডি প্রোগ্রামে ভর্তির জন্য আবেদন আহ্বান করা হয়েছে। গবেষণাভিত্তিক উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী প্রার্থীরা নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ সাপেক্ষে এসব প্রোগ্রামে আবেদন করতে পারবেন।
আবেদন কার্যক্রম শুরু হবে ২৮ জুন ২০২৬ থেকে। অনলাইনে প্রাথমিক আবেদন করা যাবে ২৯ জুলাই ২০২৬ দিবাগত রাত ১২টা পর্যন্ত। গবেষণার ক্ষেত্রে মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশ–সম্পর্কিত বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
আবেদনকারীদের জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনলাইন গেটওয়ে অথবা পে-স্লিপ ডাউনলোড করে নির্ধারিত ফি জমা দিতে হবে। আবেদন ফরমের প্রিন্ট কপি ১ আগস্ট ২০২৬-এর মধ্যে সংগ্রহ করতে হবে।
এমফিল প্রোগ্রামে ভর্তির যোগ্যতা
এমফিল প্রোগ্রামে আবেদন করতে হলে প্রার্থীকে কয়েকটি শিক্ষাগত শর্ত পূরণ করতে হবে।
শিক্ষাগত যোগ্যতা
এসএসসি/সমমান ও এইচএসসি/সমমান পরীক্ষায় পৃথকভাবে ন্যূনতম জিপিএ–৩ থাকতে হবে।
সনাতন পদ্ধতিতে উত্তীর্ণদের ক্ষেত্রে প্রতিটি পরীক্ষায় ন্যূনতম ৫০ শতাংশ নম্বর থাকতে হবে।
অনার্স ও মাস্টার্স পর্যায়ে নতুন পদ্ধতিতে পৃথকভাবে ন্যূনতম ৬০ শতাংশ নম্বর অথবা জিপিএ–৩ থাকতে হবে।
সনাতন পদ্ধতিতে উভয় পরীক্ষায় পৃথকভাবে ৫০ শতাংশ নম্বর প্রয়োজন।
নির্বাচন পদ্ধতি
লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার ফল এবং শিক্ষাজীবনের সব পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে প্রার্থীদের মেধাতালিকা তৈরি করা হবে।
আবেদনকারীকে গবেষণার প্রস্তাবনার (Research Proposal) একটি সংক্ষিপ্তসার অনলাইনে আপলোড করতে হবে।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় বা অন্য কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে একই সময়ে অন্য কোনো শিক্ষা কার্যক্রমে অধ্যয়নরত প্রার্থী এই প্রোগ্রামে ভর্তি হতে পারবেন না।
আবেদন ফরমে কোনো তথ্য, ছবি বা নথি ভুল বা অসত্য প্রমাণিত হলে ভর্তি বাতিল করা হতে পারে।
পিএইচডি প্রোগ্রামে ভর্তির যোগ্যতা
পিএইচডি প্রোগ্রামে আবেদনকারীদের জন্য এমফিলের তুলনায় উচ্চতর যোগ্যতা নির্ধারণ করা হয়েছে।
শিক্ষাগত যোগ্যতা
এসএসসি ও এইচএসসি পর্যায়ে পৃথকভাবে ন্যূনতম জিপিএ–৩ থাকতে হবে।
সনাতন পদ্ধতিতে প্রতিটি পরীক্ষায় ন্যূনতম ৫০ শতাংশ নম্বর প্রয়োজন।
স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর পরীক্ষায় পৃথকভাবে ন্যূনতম ৬৫ শতাংশ নম্বর অথবা জিপিএ–৩.২৫ থাকতে হবে।
সনাতন পদ্ধতিতে উভয় পরীক্ষায় পৃথকভাবে ৫৫ শতাংশ নম্বর প্রয়োজন।
গবেষণা ও পেশাগত অভিজ্ঞতা
পিএইচডিতে আবেদনকারীর থাকতে হবে—
স্বীকৃত বা Refereed Journal-এ প্রকাশিত দুটি গবেষণা প্রবন্ধ।
এর মধ্যে অন্তত একটি প্রবন্ধে আবেদনকারীকে First Author হতে হবে।
এ ছাড়া আবেদনকারীকে—
বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজ পর্যায়ে অন্তত তিন বছরের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।
অথবা
স্বনামধন্য গবেষণা প্রতিষ্ঠানে তিন বছরের গবেষণা অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।
অথবা
স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমফিল ডিগ্রি থাকতে হবে।
এমফিল থেকে পিএইচডিতে স্থানান্তরের সুযোগ
এমফিল প্রোগ্রামে ভর্তি হওয়া গবেষকরা নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে পিএইচডি প্রোগ্রামে স্থানান্তরের আবেদন করতে পারবেন।
এ জন্য—
প্রথম বর্ষের লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় গড়ে ন্যূনতম ৭০ শতাংশ নম্বর বা জিপিএ–৩.৫০ থাকতে হবে।
গবেষণার অগ্রগতি সন্তোষজনক হতে হবে।
সুপারভাইজারের সুপারিশ প্রয়োজন হবে।
পিএইচডিতে স্থানান্তরের সুযোগ পাওয়া গবেষকদের অতিরিক্ত ৮ ক্রেডিটের দ্বিতীয় দলীয় কোর্স সম্পন্ন করতে হবে।
এ ছাড়া পিএইচডি উপযোগী উন্নত ও নির্দিষ্ট গবেষণা প্রস্তাবনা জমা দিতে হবে। থিসিস জমা দেওয়ার আগে স্বীকৃত জার্নালে একটি গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশ বাধ্যতামূলক।
প্রোগ্রামের মেয়াদ
এমফিল
কোর্সওয়ার্ক: ১ বছর (২ সেমিস্টার)
মোট মেয়াদ: ২ বছর
পিএইচডি
সরাসরি পিএইচডি প্রোগ্রামের মেয়াদ: ৪ বছর
ফেলোশিপ সুবিধা
গবেষকদের জন্য রয়েছে মাসিক ফেলোশিপের সুযোগ।
এমফিল ফেলোশিপ
মেয়াদ: ২ বছর (২৪ মাস)
মাসিক: ১৫ হাজার টাকা
প্রদান: ৪ কিস্তিতে
পিএইচডি ফেলোশিপ
মেয়াদ: ৪ বছর (৪৮ মাস)
মাসিক: ২০ হাজার টাকা
প্রদান: ৮ কিস্তিতে
মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নির্দিষ্টসংখ্যক গবেষক ফেলোশিপ পাবেন। ফেলোশিপপ্রাপ্ত গবেষকদের কোর্স চলাকালে পূর্ণকালীন ছুটিতে থাকতে হবে।
অনলাইনে আবেদন করার নিয়ম
আবেদন করতে প্রার্থীকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তিবিষয়ক ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে হবে।
ওয়েবসাইটে—
Master's/MAS/AD. MBA/M.Phil/PGD in LIS Tab নির্বাচন করতে হবে।
Apply Now (MPhil ও PhD) অপশনে ক্লিক করতে হবে।
এরপর আবেদনকারীকে সঠিকভাবে পূরণ করতে হবে—
নাম
পিতা ও মাতার নাম
জন্মতারিখ
শিক্ষাগত যোগ্যতার তথ্য
এ ছাড়া আপলোড করতে হবে—
এসএসসি, এইচএসসি, স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পরীক্ষার মার্কশিটের সত্যায়িত কপি
গবেষণা প্রস্তাবনার সারসংক্ষেপ
ছবি আপলোডের নিয়ম
আবেদন ফরমে সাম্প্রতিক রঙিন পাসপোর্ট সাইজের ছবি আপলোড করতে হবে।
ছবির শর্ত:
মাপ: ১২০×১৫০ pixels
ফরম্যাট: JPG
সর্বোচ্চ আকার: ৫০ KB
আবেদন ফি জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া
আবেদন ফরম পূরণের পর—
১. Submit Application অপশনে ক্লিক করতে হবে।
২. রোল নম্বর ও পিন ব্যবহার করে Download Pay Slip অপশন থেকে পে-স্লিপ ডাউনলোড করতে হবে।
৩. পে-স্লিপ প্রিন্ট করে নিকটস্থ যেকোনো সোনালী ব্যাংক শাখায় জমা দিতে হবে।
অথবা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনলাইন গেটওয়ের মাধ্যমে ফি প্রদান করা যাবে।
ফি জমা দেওয়ার পর আবেদনকারীর মোবাইল নম্বরে এসএমএসের মাধ্যমে আবেদন ডাউনলোডের তথ্য পাঠানো হবে।
এরপর Application Login (MPhil অথবা PhD) অপশন থেকে আবেদন ফরম ডাউনলোড করে প্রিন্ট নিতে হবে।
আবেদনকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা
আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে মোট তিনটি ধাপ অনুসরণ করতে হবে—
ধাপ ১
অনলাইনে আবেদন ফরম পূরণ।
ধাপ ২
পে-স্লিপ ডাউনলোড ও প্রিন্ট অথবা অনলাইন গেটওয়ের মাধ্যমে ফি প্রদান।
ধাপ ৩
ফি জমা দেওয়ার পর আবেদন ফরম ডাউনলোড ও প্রিন্ট সংগ্রহ।
প্রাথমিক আবেদন ফরম ছাড়া কোনো প্রার্থীকে মেধাতালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে না।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের এই এমফিল ও পিএইচডি প্রোগ্রাম গবেষণায় আগ্রহী শিক্ষার্থী ও পেশাজীবীদের জন্য উচ্চতর গবেষণার একটি সুযোগ তৈরি করছে। বিশেষ করে মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশের ইতিহাস, সমাজ, রাজনীতি, সংস্কৃতি ও উন্নয়ন–সম্পর্কিত গবেষণায় আগ্রহীদের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ একটি উদ্যোগ।