
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার জবাবে কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র উপসাগরীয় দেশ দুটির ভূখণ্ডে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে।
রোববার এক বিবৃতিতে আইআরজিসি বলেছে, ইরানের ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্রের আক্রমণের জবাব হিসেবেই এসব হামলা চালানো হয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যেকোনো ধরনের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিক্রিয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে বাহিনীটি।
আইআরজিসির দাবি, কুয়েতের আলি আল–সালেম বিমানঘাঁটি এবং বাহরাইনের সালমান বন্দরে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম বহরের ঘাঁটিতে হামলায় আটটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা ধ্বংস হয়েছে।
তবে ইরানের এই দাবির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র বা সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
‘যেকোনো আগ্রাসনের কঠোর জবাব দেওয়া হবে’
আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, শত্রুপক্ষের যেকোনো আগ্রাসন, অজুহাত কিংবা সীমিত কোনো লক্ষ্যবস্তুতে হামলাও কঠোর জবাবের মুখে পড়বে।
বিবৃতিতে বলা হয়, “শত্রুপক্ষের যেকোনো আগ্রাসন কিংবা অজুহাত, যা-ই হোক না কেন; এমনকি তুচ্ছ কোনো লক্ষ্যবস্তু হলেও, সেটার কড়া জবাব দেওয়া হবে।”
ইরান বলছে, এই হামলার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করা হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে দেশটির বিরুদ্ধে কোনো সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার আগে পরিণতি বিবেচনা করা হয়।
হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনা
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালিতে নতুন করে উত্তেজনার মধ্যেই ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটেছে।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানিয়েছিল, হরমুজ প্রণালিতে পানামার পতাকাবাহী একটি তেলবাহী ট্যাংকারে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) দাবি করেছে, ওই ঘটনার পর তারা পাল্টা হামলা চালিয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম জানিয়েছে, রোববার ভোরে দক্ষিণাঞ্চলীয় সিরিক এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
যুদ্ধবিরতির প্রচেষ্টার মধ্যেই নতুন সংঘাত
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা এমন এক সময়ে আবারও বেড়েছে, যখন দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে কূটনৈতিক তৎপরতা চলছিল।
প্রায় দুই সপ্তাহ আগে দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার পর এটিই উত্তেজনা বৃদ্ধির সবচেয়ে বড় ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর দুই দেশের মধ্যে সর্বাত্মক সংঘাত শুরু হয়। এরপর স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়।
ওয়াশিংটন ও তেহরান ৬০ দিনের মধ্যে একটি স্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিল।
সমঝোতা লঙ্ঘনের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ
যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে হওয়া সমঝোতার পরও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একে অপরের বিরুদ্ধে চুক্তির শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগ করে আসছে।
তেহরানের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র সামরিক চাপ বজায় রেখে সমঝোতার পরিবেশ নষ্ট করছে। অন্যদিকে ওয়াশিংটন অভিযোগ করে আসছে, ইরান আঞ্চলিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে উত্তেজনা বাড়াচ্ছে।
সর্বশেষ হামলার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোর নিরাপত্তা, জ্বালানি পরিবহন এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।