প্রিন্ট এর তারিখঃ Jun 29, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jun 29, 2026 ইং
‘শিশুহত্যার দায়ে বিচার হওয়া উচিত’, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের বিরুদ্ধে মোজতবার অভিযোগ

আল–জাজিরা
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা আলী খামেনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নেতাদের বিরুদ্ধে ‘শিশুহত্যা, যুদ্ধাপরাধ ও আগ্রাসনের’ অভিযোগ এনে তাঁদের বিচার দাবি করেছেন। রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি এ দাবি করেন।
মোজতবা খামেনি বলেন, ২০২৫-২৬ সালে ইরানের বিরুদ্ধে সংঘটিত কথিত ‘শিশুহত্যা, যুদ্ধাপরাধ ও আগ্রাসনের’ জন্য দায়ী ব্যক্তিদের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক আদালতে বিচারের মুখোমুখি করা উচিত। তাঁর দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শীর্ষ নেতাদের বিভিন্ন প্রকাশ্য বক্তব্যকে এসব কর্মকাণ্ডের ‘স্বীকারোক্তি’ হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে।
ইরানের তৎকালীন প্রধান বিচারপতি আয়াতুল্লাহ মোহাম্মদ বেহেশতি ও দেশটির কয়েকজন শীর্ষ রাজনৈতিক নেতার মৃত্যুর বার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া ওই বার্তায় এসব মন্তব্য করেন তিনি। ২০২৫ সাল বলতে মোজতবা খামেনি মূলত ওই বছরের জুনে ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে সংঘটিত ১২ দিনের সংঘাতের বিষয়টি উল্লেখ করেছেন।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতার বক্তব্যে উল্লেখ করা ‘শিশুহত্যা’র একটি উদাহরণ হিসেবে মিনাব শহরের শাজারেহ তাইয়্যেবেহ বালিকা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হামলার কথা তুলে ধরা হয়েছে। ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি, ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র–ইরান সংঘাতের প্রথম দিনে দক্ষিণাঞ্চলীয় ওই বিদ্যালয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় শিক্ষকসহ ১৭৫ জনের বেশি মানুষ নিহত হন। তাঁদের বড় অংশই ছিল শিশু।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে চলমান ইরান–যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান–ইসরায়েল উত্তেজনার মধ্যে মোজতবা খামেনির এই বক্তব্য নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি করেছে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর মোজতবা খামেনি দেশটির পররাষ্ট্রনীতি ও নিরাপত্তা ইস্যুতে কঠোর অবস্থান তুলে ধরছেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের দীর্ঘদিনের বিরোধের প্রেক্ষাপটে তাঁর এ বক্তব্য দুই দেশের সম্পর্কের টানাপোড়েন আরও বাড়াতে পারে বলে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বার্তা এক্সপ্রেস