প্রিন্ট এর তারিখঃ Jun 29, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jun 29, 2026 ইং
হরমুজ নিয়ে কঠোর বার্তা তেহরানের, ৩০ দিনের নিয়ন্ত্রণের দাবি আরাগচির

আল–জাজিরা
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি দাবি করেছেন, আগামী ৩০ দিন কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণভাবে ইরানের নিয়ন্ত্রণে থাকবে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া সমঝোতা স্মারকের ভিত্তিতেই তেহরান এই নৌপথের ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পেয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
রোববার ইরাকের রাজধানী বাগদাদে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফুয়াদ হুসেইনের সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে আরাগচি এসব কথা বলেন।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ইরানের ওপর চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধের সর্বশেষ পরিস্থিতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সই হওয়া সমঝোতা চুক্তির অগ্রগতি নিয়ে ইরাকি কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।
তিনি বলেন, “আগামী ৩০ দিন হরমুজ প্রণালির সার্বিক দেখাশোনা ও ব্যবস্থাপনা সম্পূর্ণভাবে ইরানের হাতে থাকবে। এরপর সব বাধা দূর হলে এই জলপথ আগের মতো পুরোপুরি সচল হবে। আমরা এখন সেই লক্ষ্যেই কাজ করছি।”
আরাগচি আরও বলেন, হরমুজ প্রণালির বিষয়ে দায়িত্ব শুধু ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের। এ ক্ষেত্রে অন্য কোনো দেশ বা পক্ষের ভূমিকা নেই।
তিনি সতর্ক করে বলেন, “সমঝোতা চুক্তি অনুযায়ী বিষয়টি পরিষ্কার। কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ বা একতরফা পদক্ষেপ নেওয়া হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হবে। একই সঙ্গে প্রণালি পুনরায় চালু করার প্রক্রিয়াও বিলম্বিত হবে।”
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রকে সই করা সমঝোতা মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে বলেন, চুক্তিটি কোনোভাবেই ব্যর্থ করা উচিত নয়।
ইরাক সফরে আরাগচি
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সাম্প্রতিক সংঘাতের পর প্রথমবারের মতো ইরাক সফর করছেন আব্বাস আরাগচি। রোববার তিনি বাগদাদে পৌঁছে ইরাকি নেতাদের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন।
এই সফরে আঞ্চলিক নিরাপত্তা, হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি, ইরানের আটকে থাকা সম্পদ এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া সমঝোতা বাস্তবায়নের বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিনের বৈরিতা কমানোর লক্ষ্যে একটি ভঙ্গুর সমঝোতা টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করছে। তবে দুই দেশের মধ্যে এখনো মাঝে মাঝে সামরিক উত্তেজনা ও হামলার ঘটনা ঘটছে, যা আলোচনার প্রক্রিয়াকে জটিল করে তুলছে।
বৈশ্বিক বাণিজ্যে হরমুজের গুরুত্ব
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ। পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরকে যুক্ত করা এই নৌপথ দিয়ে বিশ্বের বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল ও গ্যাস পরিবহন করা হয়।
এই জলপথের নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ইরান ও পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনা রয়েছে। ফলে হরমুজ প্রণালি নিয়ে যেকোনো নতুন সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার ও বৈশ্বিক বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
তবে আরাগচির দাবি করা ‘ইরানের একক নিয়ন্ত্রণ’ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র বা অন্য সংশ্লিষ্ট পক্ষের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বার্তা এক্সপ্রেস