প্রিন্ট এর তারিখঃ Jun 29, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jun 29, 2026 ইং
এক দিনের ব্যবধানে নয়, একই দিনেই দুই ভূমিকম্প আঘাত হানল আফগানিস্তান-পাকিস্তানে

রয়টার্স
আফগানিস্তানের হিন্দুকুশ অঞ্চলে শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। রিখটার স্কেলে ৬ মাত্রার এই ভূমিকম্পে আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলসহ বিভিন্ন এলাকা কেঁপে ওঠে। একই সঙ্গে সীমান্ত পেরিয়ে প্রতিবেশী পাকিস্তানের কয়েকটি অঞ্চলেও কম্পন অনুভূত হয়েছে।
ইউরোপিয়ান-মেডিটারেনিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টার (ইএমএসসি) জানিয়েছে, গতকাল শনিবার আঘাত হানা ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার গভীরে। গভীর উৎপত্তিস্থলের কারণে বিস্তীর্ণ এলাকায় কম্পন অনুভূত হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এর কয়েক ঘণ্টা আগে পাকিস্তানে ৫ দশমিক ৪ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়। পরপর দুটি ভূমিকম্পে আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের বিভিন্ন এলাকায় মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
পাকিস্তানে ভূমিকম্পের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে বেলুচিস্তান প্রদেশের মুসাখাইল জেলায়। জেলার ডেপুটি কমিশনার আবদুল রাজ্জাক খাজাক রয়টার্সকে জানান, ভূমিকম্পে ওই জেলার বিভিন্ন এলাকায় ২০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। এ ছাড়া কয়েক ডজন বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বেলুচিস্তানের প্রাদেশিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রাথমিক হিসাবে প্রায় ১২৫টি বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে জরুরি ভিত্তিতে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।
কর্তৃপক্ষের পাঠানো উদ্ধারকারী দলগুলোর সঙ্গে তাঁবু, খাদ্যসামগ্রী, সৌর প্যানেল, কম্বলসহ প্রয়োজনীয় বিভিন্ন সামগ্রী পাঠানো হয়েছে। দুর্গত মানুষের নিরাপদ আশ্রয় ও জরুরি সহায়তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন কাজ করছে।
ভূমিকম্পের সময় পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের সোয়াত জেলার বাসিন্দারা আতঙ্কে ঘরবাড়ি ছেড়ে রাস্তায় বেরিয়ে আসেন। স্থানীয় বাসিন্দা দানিয়াল আহমদ বলেন, সোয়াতে ভূমিকম্পের কম্পন ছিল বেশ শক্তিশালী এবং দীর্ঘ সময় ধরে তা অনুভূত হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘সোয়াতে ভূমিকম্পটি খুবই শক্তিশালী ছিল। অনেকক্ষণ ধরে কম্পন অনুভূত হয়েছে।’
এ ঘটনায় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, তিনি ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে দুঃখ প্রকাশ করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
আফগানিস্তান ও পাকিস্তান বিশ্বের অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলের মধ্যে পড়ে। বিশেষ করে হিন্দুকুশ পর্বতমালা ও এর আশপাশের এলাকায় ভূগর্ভস্থ টেকটোনিক প্লেটের সক্রিয়তার কারণে প্রায়ই মাঝারি থেকে শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে।
এ ধরনের দুর্যোগে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়ে। তাই ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র জানতে স্থানীয় প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থাগুলো এখনো পরিস্থিতি মূল্যায়ন করছে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বার্তা এক্সপ্রেস