
জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। ‘দেশ গড়তে জুলাই জাগরণ’ শিরোনামের এ কর্মসূচিতে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক আয়োজন, পদযাত্রা, গণসংযোগ, শহীদদের স্মরণ, ক্রীড়া প্রতিযোগিতা এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে নানা কর্মসূচি রাখা হয়েছে।
আগামী ১ জুলাই রাজধানীর রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে শহীদদের কবর জিয়ারতের মধ্য দিয়ে শুরু হবে এ আয়োজন। প্রায় এক মাসব্যাপী কর্মসূচির সমাপ্তি হবে ৫ আগস্ট ‘বিজয়ের উল্লাস’ শীর্ষক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে।
সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জুলাই মাসের কর্মসূচির বিস্তারিত ঘোষণা করেন দলের দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ।
জুলাইয়ের চেতনা নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য
এনসিপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জুলাই গণ–অভ্যুত্থানকে ঐতিহাসিক ঘটনা হিসেবে স্মরণ করা এবং এর আকাঙ্ক্ষাকে নতুন প্রজন্ম ও দেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই মাসব্যাপী এ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।
দলটির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এসব কর্মসূচির মাধ্যমে জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের গুরুত্বপূর্ণ দিন ও ঘটনাগুলো জনগণের সামনে তুলে ধরা হবে। একই সঙ্গে গণ–অভ্যুত্থানের চেতনা, ত্যাগ ও প্রত্যাশা নিয়ে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করা হবে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ–অভ্যুত্থানের মুখে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। এর আগে ওই বছরের ১ জুলাই থেকে শুরু হওয়া আন্দোলন ধীরে ধীরে ব্যাপক গণ–আন্দোলনে রূপ নেয়। শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে পরিচালিত সেই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় গত বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি এনসিপির আত্মপ্রকাশ ঘটে।
কর্মসূচি বাস্তবায়নে ২৮ সদস্যের কমিটি
মাসব্যাপী কর্মসূচি সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নের জন্য এনসিপি ২৮ সদস্যের ‘জুলাই পুনর্জাগরণ বাস্তবায়ন কমিটি’ গঠন করেছে।
কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে হাসনাত আবদুল্লাহকে এবং সদস্যসচিব করা হয়েছে দলের যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদকে।
এই কমিটি জুলাইয়ের সব কর্মসূচির পরিকল্পনা, সমন্বয় ও বাস্তবায়নের দায়িত্ব পালন করবে।
এনসিপির পক্ষ থেকে দেশের নাগরিক, তরুণসমাজ, শিক্ষার্থী, সংস্কৃতিকর্মী ও পেশাজীবীদের এসব কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
জুলাই মাসজুড়ে যেসব কর্মসূচি
১ জুলাই: রায়েরবাজার থেকে শুরু
১ জুলাই রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে শহীদদের কবর জিয়ারতের মধ্য দিয়ে কর্মসূচির সূচনা হবে। একই দিনে ফ্যাসিবাদবিরোধী ছাত্রসংগঠনগুলোর সংহতি সভা অনুষ্ঠিত হবে।
এদিন ‘জুলাই থেকে জনপদে’ শিরোনামে বিচার ও গণভোট বাস্তবায়নের দাবিতে উপজেলা পর্যায়ে পদযাত্রার রোডম্যাপ ঘোষণা করা হবে।
২–১০ জুলাই: গ্রাফিতি, ক্রীড়া ও আলোচনা
২ থেকে ৮ জুলাই দেশব্যাপী গ্রাফিতি, দেয়াললিখন এবং ব্যানার-ফেস্টুনের মাধ্যমে ‘জুলাই জাগরণ’ কর্মসূচি পালন করা হবে।
৫ থেকে ৯ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে জুলাই স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্ট।
১০ জুলাই ‘বাংলাদেশি সংস্কৃতির পরিবর্তিত অভিমুখ: লেখক-বুদ্ধিজীবীর দায়’ শীর্ষক আলোচনা সভার আয়োজন করা হবে।
১৪–২০ জুলাই: নারী, কৃষক ও বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের অংশগ্রহণ
১৪ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে জুলাই নারী সমাবেশ।
১৫ জুলাই ‘কৃষকের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তিতে জুলাই গণ–অভ্যুত্থান’ শীর্ষক আয়োজন থাকবে।
১৬ জুলাই জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সব শহীদের কবর জিয়ারত, দেশব্যাপী দোয়া ও মোনাজাত করা হবে।
১৭ জুলাই ফ্যাসিবাদের বিচারের দাবিতে কফিনমিছিল করবে এনসিপি।
১৮ জুলাই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘রেজিস্ট্যান্স ডে’ পালন করা হবে।
১৯ জুলাই ‘উত্তরার রক্তাক্ত জুলাই’ স্মৃতিচারণা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।
২০ জুলাই ‘জুলাইয়ের যাত্রাবাড়ী: মাদ্রাসাশিক্ষার্থীদের ভূমিকা’ শীর্ষক কর্মসূচি রাখা হয়েছে।
২২–২৭ জুলাই: আহত, যুব ও শ্রমজীবীদের নিয়ে আয়োজন
২২ জুলাই ‘সাদা অ্যাপ্রোনের সাহস ও জুলাইয়ের অদৃশ্য বীরেরা’ শীর্ষক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে।
২৩ জুলাই ‘আহতের কণ্ঠে জুলাই গণ–অভ্যুত্থান ও যন্ত্রণার দিনলিপি’ শীর্ষক আয়োজন থাকবে।
২৪ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে জুলাই যুব কনভেনশন। একই দিনে ‘অবরুদ্ধ সময়ের স্মৃতি ও কবিতা’ শীর্ষক আয়োজনও থাকবে।
২৫ জুলাই শ্রমিক সমাবেশ ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী করবে এনসিপি।
২৬ জুলাই ‘সাদা পোশাকের জালিম’ শিরোনামে স্মৃতিচারণা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।
২৭ জুলাই ‘জুলাই গণ–অভ্যুত্থান ও উদ্যোক্তার বাংলাদেশ’ শীর্ষক আয়োজন থাকবে।
৩০ জুলাই–৫ আগস্ট: স্মরণ ও সমাপনী আয়োজন
৩০ জুলাই ‘ফিরে দেখা জুলাই’ কর্মসূচি পালন করবে এনসিপি। একই দিন ‘হ্যাশট্যাগ থেকে গণ–অভ্যুত্থান’ শীর্ষক আয়োজন থাকবে।
৩১ জুলাই ‘স্মৃতিতে জুলাইয়ের ক্যাম্পাস’ শিরোনামে শিক্ষকদের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হবে।
১ আগস্ট ‘দেশপ্রেমের ইউনিফর্ম’ এবং ‘সংবাদে গণ–অভ্যুত্থান’ শীর্ষক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে।
২ আগস্ট ‘জুলাইয়ের দ্রোহযাত্রা’ আয়োজনের পাশাপাশি গণ–অভ্যুত্থানের অগ্নিস্বর ও জুলাই স্মরণিকা প্রকাশ করা হবে।
৩ আগস্ট ‘জনতার এক দফা’ শীর্ষক কর্মসূচি থাকবে।
৪ আগস্ট ‘শ্রদ্ধা, স্মৃতি ও প্রতিশ্রুতি’ শিরোনামে আহত ও শহীদ পরিবারের সঙ্গে মতবিনিময় করা হবে।
সবশেষে ৫ আগস্ট ‘বিজয়ের উল্লাস’ কর্মসূচির মাধ্যমে মাসব্যাপী আয়োজনের সমাপ্তি হবে।
প্রবাসেও পালিত হবে জুলাই কর্মসূচি
সংবাদ সম্মেলনে হাসনাত আবদুল্লাহ জানান, ১ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত এনসিপির প্রবাসী সংগঠন ডায়াস্পোরা অ্যালায়েন্সের উদ্যোগে বিভিন্ন দেশেও জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে কর্মসূচি পালন করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব, যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ, যুগ্ম সদস্যসচিব আকরাম হুসাইন, জাতীয় যুবশক্তির সভাপতি তারিকুল ইসলামসহ দলের অন্যান্য নেতারা।