
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে নয় দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপির ছাত্রসংগঠন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। আলোচনা সভা, ছাত্র সমাবেশ, স্মরণসভা, সাংস্কৃতিক আয়োজন, চিত্রপ্রদর্শনী, দোয়া মাহফিল এবং শহীদ পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাতসহ নানা কর্মসূচির মাধ্যমে এ বর্ষপূর্তি পালনের পরিকল্পনা করেছে সংগঠনটি।
বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম এবং সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণ, শহীদ ও আহতদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন, আন্দোলনে বিভিন্ন অংশীজনের অবদানের স্বীকৃতি এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী জাতীয় ঐক্য সুসংহত করার লক্ষ্যে এ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।
১৫ জুলাই আলোচনা সভার মাধ্যমে সূচনা
ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, আগামী ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) মিলনায়তনে ‘গণ-অভ্যুত্থানের বাঁকবদলের দিন’ শীর্ষক আলোচনা সভার মাধ্যমে কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হবে।
ছাত্রদল জানিয়েছে, এ আলোচনা সভায় জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বিভিন্ন পর্যায়, আন্দোলনের রাজনৈতিক তাৎপর্য এবং ছাত্র-জনতার ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করা হবে।
বিভাগীয় ছাত্র সমাবেশ ও স্মরণসভা
১৬ জুলাই চট্টগ্রাম ও রংপুর বিভাগে বিভাগীয় ছাত্র সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। এতে সংশ্লিষ্ট বিভাগের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, জেলা, মহানগর, কলেজ, উপজেলা ও পৌর শাখার নেতা-কর্মীরা অংশ নেবেন।
একই দিনে চট্টগ্রাম ও রংপুর ছাড়া দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়, জেলা ও মহানগর শাখায় জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মরণে স্মরণসভার আয়োজন করা হবে।
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অবদান স্মরণ
১৮ জুলাই ‘বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিরোধ দিবস’ উপলক্ষে ছাত্রদলের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার উদ্যোগে বিশেষ কর্মসূচি পালন করা হবে।
এ ছাড়া ২০ জুলাই ‘গণ-অভ্যুত্থানে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অবদান’ শীর্ষক স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে আন্দোলনে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ভূমিকা তুলে ধরা হবে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।
‘প্রতীকী জুলাই’ ও সাংস্কৃতিক আয়োজন
২১ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের উদ্যোগে ‘প্রতীকী জুলাই’ শীর্ষক একটি লাইভ পারফরম্যান্স অনুষ্ঠিত হবে। আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, এতে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বিভিন্ন স্মরণীয় ও আবেগঘন ঘটনার প্রতীকী উপস্থাপনা করা হবে।
একই দিনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, গত ১৭ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ আলোকচিত্র নিয়ে প্রদর্শনী, কবিতা উৎসব এবং পথনাটকেরও আয়োজন করা হবে।
দোয়া, মিলাদ ও শহীদ পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ
২২ জুলাই জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নিহতদের আত্মার মাগফিরাত এবং আহতদের সুস্থতা কামনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।
একই কর্মসূচি দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, জেলা, মহানগর, উপজেলা, কলেজ ও পৌর শাখাতেও পালন করা হবে।
এ ছাড়া ২৪ ও ২৫ জুলাই সারা দেশে ছাত্রদলের বিভিন্ন ইউনিটের নেতা-কর্মীরা শহীদদের কবর জিয়ারত করবেন এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
৩ আগস্ট ছাত্র সমাবেশে সমাপ্তি
ঘোষিত কর্মসূচির সমাপনী আয়োজন অনুষ্ঠিত হবে আগামী ৩ আগস্ট রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে।
সেদিন একটি কেন্দ্রীয় ছাত্র সমাবেশের আয়োজন করবে ছাত্রদল। সংগঠনটির ঘোষণায় বলা হয়েছে, ওই সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
‘ঐতিহাসিক স্মৃতি সংরক্ষণ ও জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠার’ লক্ষ্য
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ছাত্রদল বলেছে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণ, আহতদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন, আন্দোলনের ঐতিহাসিক স্মৃতি সংরক্ষণ, বিভিন্ন অংশীজনের অবদানের স্বীকৃতি এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই এ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।
সংগঠনটির ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের মধ্য দিয়ে যে গণ-অভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছিল, সেখানে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিলেন। সেই আন্দোলনের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তিকে সামনে রেখে দেশব্যাপী ধারাবাহিক কর্মসূচির মাধ্যমে জুলাই আন্দোলনের স্মৃতি সংরক্ষণ এবং নতুন প্রজন্মের কাছে সেই ইতিহাস তুলে ধরাই এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।