
রাজশাহীর পবা উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. জাহিদ হাসান রাসেলকে রিকশাচালককে জুতাপেটা করার ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন-৫ শাখার এক প্রজ্ঞাপনে সোমবার (৩ মার্চ) তাকে সাময়িক বরখাস্ত করার ঘোষণা দেওয়া হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, রিকশাচালককে নির্দয়ভাবে প্রহার করার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে এবং বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে, যা সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ও সমাজকল্যাণ অধিদপ্তরের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ন করেছে। এ ধরনের আচরণ সরকারি কর্মচারী হিসেবে অশোভনীয়, অসংগত এবং চাকরি শৃঙ্খলা পরিপন্থি, তাই তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তবে, সরকারি চাকরি আইন অনুযায়ী তিনি খোরপোষ ভাতা প্রাপ্য হবেন।
ভিডিওটি গত শুক্রবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে দেখা যায় জাহিদ হাসান রাসেল কোয়ার্টারের সামনে এক রিকশাচালককে পায়ের জুতা খুলে পেটাচ্ছেন এবং পরে প্রাইভেট কারের ব্যাকডালা থেকে লাঠি বের করে চালককে ও রিকশাকে আঘাত করছেন। ভিডিওতে তাকে অশ্লীল ভাষায় গালাগালও করতে শোনা যায়।
ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর, ৩ মার্চ পর্যন্ত দুই দিন ছুটি নেন জাহিদ হাসান। তিনি রোববার নিজের ফেসবুক আইডিতে একটি স্ট্যাটাস দিয়ে ঘটনার জন্য অনুতপ্ত হয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। তিনি লেখেন, "এমন ঘটনা কি আর কারও জীবনে ঘটেনি? আমি অন্যায় করেছি, তবে এত বড় শাস্তি কি আমার পাওনা ছিল?"
এ ঘটনার তদন্তের জন্য রাজশাহীর জেলা প্রশাসক আফিয়া আখতার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে ইউএনও তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন, তবে মন্ত্রণালয় তদন্তের আগেই তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে।