প্রিন্ট এর তারিখঃ Jul 4, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jul 4, 2026 ইং
বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা বরাদ্দ নিয়ে ইউজিসির আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা

গবেষণা খাতে বরাদ্দ নিয়ে সাম্প্রতিক বিভ্রান্তির পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) বলেছে, ২০২৬–২৭ অর্থবছরে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গবেষণা কার্যক্রমের জন্য মোট ২২৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। ফলে গবেষণা খাতে কোনো অর্থ বরাদ্দ নেই—এমন সংবাদ সঠিক নয় বলে দাবি করেছে সংস্থাটি। একই সঙ্গে গবেষণা অর্থায়নের নতুন পদ্ধতিকে আরও সহজ, স্বচ্ছ ও গবেষকবান্ধব হিসেবে তুলে ধরেছে কমিশন।
ইউজিসি জানিয়েছে, গবেষণায় বরাদ্দ কমেনি; বরং গত অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ১৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কাছ থেকে গবেষণা পরিকল্পনা ও বাজেটের চাহিদাপত্র চেয়ে ইতোমধ্যে নির্দেশনাও পাঠানো হয়েছে। এসব তথ্য তুলে ধরে শুক্রবার (৩ জুলাই) এক বিজ্ঞপ্তিতে নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছে কমিশন।
সম্প্রতি দেশের কয়েকটি গণমাধ্যমে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গবেষণা খাতে বাজেট বরাদ্দ নিয়ে প্রকাশিত কিছু প্রতিবেদনের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে ইউজিসি বলেছে, ওইসব প্রতিবেদনে গবেষণা অর্থায়নের পূর্ণাঙ্গ চিত্র উপস্থাপিত হয়নি। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ কারণেই প্রকৃত তথ্য তুলে ধরে ব্যাখ্যা দেওয়া প্রয়োজন হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০২৬–২৭ অর্থবছরে দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা কার্যক্রমের জন্য ইউজিসি মোট ২২৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রেখেছে, যা ২০২৫–২৬ অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ১৩ শতাংশ বেশি। তাই গবেষণা খাতে কোনো বাজেট রাখা হয়নি—এমন দাবি বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।
ইউজিসি আরও জানায়, গবেষণা খাতে অর্থায়নে দ্বৈততা দূর করার লক্ষ্যে সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নতুন অর্থায়ন পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে গবেষণা প্রকল্পে অর্থ বরাদ্দের প্রক্রিয়া আরও সহজ, স্বচ্ছ এবং গবেষকবান্ধব হবে বলে কমিশনের দাবি। একই সঙ্গে এ ব্যবস্থার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর একাডেমিক স্বাধীনতা, প্রাতিষ্ঠানিক স্বকীয়তা, গবেষণার অগ্রাধিকার কিংবা বিষয়ভিত্তিক বৈচিত্র কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত হবে না বলেও আশ্বস্ত করেছে ইউজিসি।
গবেষণা তহবিল দ্রুত ছাড়ের বিষয়ে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, ২০২৬–২৭ অর্থবছরের জন্য গবেষণা খাতে অর্থ প্রদানের লক্ষ্যে ২ জুলাই দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়কে চিঠি পাঠানো হয়েছে। ওই চিঠিতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে তাদের গবেষণা পরিকল্পনা, উপ-খাতভিত্তিক অর্থের চাহিদা এবং সম্ভাব্য বাজেট প্রাক্কলন দ্রুত কমিশনে পাঠানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে।
কমিশন জানিয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কাছ থেকে চাহিদাপত্র পাওয়ার পর অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে দ্রুততম সময়ের মধ্যে গবেষণা তহবিল ছাড়ের কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে পাঠানো নির্দেশনায় গবেষণা বাজেট প্রণয়নের ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয়কে বিশেষ গুরুত্ব দিতে বলা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—আন্ডারগ্র্যাজুয়েট, মাস্টার্স ও পিএইচডি পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের গবেষণায় আরও বেশি সম্পৃক্ত করা, জ্যেষ্ঠ গবেষকদের সঙ্গে নবীন গবেষক ও শিক্ষার্থীদের যৌথ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে শক্তিশালী গবেষণা ইকোসিস্টেম গড়ে তোলা এবং গবেষণা প্রকল্প নির্বাচন ও পরিকল্পনায় দেশের উন্নয়ন চাহিদা ও সরকারের অগ্রাধিকারমূলক বিষয়গুলোকে বিবেচনায় রাখা।
ইউজিসির মতে, এ ধরনের অগ্রাধিকার অনুসরণ করলে বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক গবেষণার মানোন্নয়ন, তরুণ গবেষকদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং জাতীয় প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ গবেষণা কার্যক্রম সম্প্রসারণে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। একই সঙ্গে গবেষণা তহবিল ব্যবহারে অধিকতর জবাবদিহি ও কার্যকারিতাও নিশ্চিত হবে বলে আশা করছে কমিশন।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বার্তা এক্সপ্রেস