
দেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় সংঘাত, প্রতিহিংসা ও বিভাজনের রাজনীতি পরিহার করে সংলাপ, সহনশীলতা এবং অংশগ্রহণমূলক রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় পার্টির (একাংশ) চেয়ারম্যান আনিসুল ইসলাম মাহমুদ। তিনি বলেছেন, একটি স্থিতিশীল ও কার্যকর গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য সব রাজনৈতিক শক্তির অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি।
রোববার সকালে রাজধানীর গুলশানে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত দলের প্রেসিডিয়াম সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
‘সংলাপ ও সহনশীলতার বিকল্প নেই’
সভায় আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে পারস্পরিক সংঘাত ও প্রতিশোধের রাজনীতি থেকে বেরিয়ে এসে জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি বলেন, ‘দেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় সংঘাত, প্রতিহিংসা ও বিভাজনের রাজনীতি থেকে বেরিয়ে এসে সংলাপ, সহনশীলতা ও অংশগ্রহণমূলক রাজনীতির পরিবেশ গড়ে তোলা জরুরি।’
সাবেক এই পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী এবং বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রতিশোধের রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে দেশের স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার যে আহ্বান জানিয়েছেন, তা ইতিবাচক রাজনৈতিক বার্তা বহন করে।
তাঁর মতে, দেশের বৃহত্তর স্বার্থে সব রাজনৈতিক দলের উচিত পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সহনশীলতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ভিত্তিতে এগিয়ে আসা।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কিংবা রাষ্ট্র পরিচালনার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কোনো রাজনৈতিক শক্তিকে অযথা বাইরে রেখে নয়, বরং সব পক্ষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেই একটি স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশ গড়ে তোলা সম্ভব।
‘সংঘাত নয়, কার্যকর গণতন্ত্র চায় মানুষ’
সভার শুরুতে স্বাগত বক্তব্যে জাতীয় পার্টির মহাসচিব ও সাবেক মন্ত্রী এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, জাতীয় পার্টি সব সময় গণতন্ত্র, সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা এবং শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক সংস্কৃতির পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
তিনি বলেন, দেশের মানুষ এখন রাজনৈতিক সংঘাত নয়; বরং কার্যকর গণতন্ত্র, সুশাসন, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং জনকল্যাণমুখী রাজনীতি প্রত্যাশা করে।
রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, জনগণের সেই প্রত্যাশা পূরণে জাতীয় পার্টি দায়িত্বশীল রাজনৈতিক ভূমিকা পালন করে যাবে।
এরশাদের মৃত্যুবার্ষিকী পালনের ঘোষণা
সভায় জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়।
রুহুল আমিন হাওলাদার জানান, আগামী ১৪ জুলাই কেন্দ্রীয় কর্মসূচির পাশাপাশি দেশের জেলা, মহানগর, উপজেলা এবং সব সাংগঠনিক ইউনিটে বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে মৃত্যুবার্ষিকী পালন করা হবে।
তিনি দলীয় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, এরশাদের রাজনৈতিক অবদান, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে সক্রিয়ভাবে কাজ করতে হবে।
সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদারের তাগিদ
প্রেসিডিয়াম সভায় জাতীয় পার্টির নির্বাহী চেয়ারম্যান মুজিবুল হক চুন্নু, সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান কাজী ফিরোজ রশীদ, কো-চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু হোসেন, সাহিদুর রহমান, মোস্তফা আল মাহমুদসহ কেন্দ্রীয় নেতারা বক্তব্য দেন।
সভায় বক্তারা দলকে আরও শক্তিশালী ও সুসংগঠিত করতে তৃণমূল পর্যায়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি নতুন সদস্য সংগ্রহ, তরুণ নেতৃত্বের বিকাশ এবং জনগণের বিভিন্ন সমস্যা ও দাবি নিয়ে মাঠপর্যায়ে সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
নেতারা বলেন, রাজনৈতিক পরিবর্তনের এই সময়ে দলীয় সাংগঠনিক ভিত্তি আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি গণমুখী কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি করতে হবে। একই সঙ্গে দেশের গণতান্ত্রিক চর্চা, রাজনৈতিক সহনশীলতা এবং অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করতে সব রাজনৈতিক দলের মধ্যে সংলাপ ও পারস্পরিক সহযোগিতার সংস্কৃতি গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।