
প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস চেয়ারম্যান জুবাইদা রহমান বলেছেন, শিশু দিবাযত্নকেন্দ্র (ডে-কেয়ার) শুধু শিশুদের দেখভালের স্থান নয়, বরং সুস্থ ও দক্ষ ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়ে তোলার অন্যতম ভিত্তি। তিনি মনে করেন, পর্যাপ্ত ও মানসম্মত ডে-কেয়ার সুবিধার অভাবে এখনও অনেক কর্মজীবী পরিবার, বিশেষ করে মায়েরা নানা সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন।
সোমবার রাজধানীর পানি ভবনের মাল্টিপারপাস হলে নারী ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আয়োজিত ‘শিশুর প্রাথমিক পরিচর্যা ও বিকাশ’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সমাজকল্যাণ এবং নারী ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ এবং সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন।
কর্মশালায় যোগ দেওয়ার আগে জুবাইদা রহমান তেজগাঁও সরকারি শিশু পরিবার (বালিকা), ভূমি ভবনের শিশু দিবাযত্নকেন্দ্র এবং পানি ভবনের ডে-কেয়ার সেন্টার পরিদর্শন করেন।
জুবাইদা রহমান বলেন, দেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেকের বেশি নারী এবং উল্লেখযোগ্য অংশ ১৪ বছরের নিচের শিশু। তাই কর্মজীবী অভিভাবকদের সহায়তায় ডে-কেয়ার সেবার সম্প্রসারণ সময়ের দাবি।
তিনি জানান, বর্তমানে দেশের ১২৩টি শিশু বিকাশকেন্দ্রে প্রায় ৭ হাজার ৩৬০ শিশু সেবা পাচ্ছে, যা মোট চাহিদার খুবই সামান্য অংশ পূরণ করছে। এ কারণে আরও বেশি দিবাযত্নকেন্দ্র স্থাপন ও সেবার মান উন্নয়নের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
তাঁর মতে, শিশুর জীবনের প্রথম কয়েকটি বছরই ব্যক্তিত্ব, মূল্যবোধ, সামাজিক আচরণ ও শিক্ষার ভিত্তি তৈরির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। এ পর্যায়ে সঠিক পরিচর্যা ও প্রাক্-প্রাথমিক শিক্ষা শিশুদের ভবিষ্যৎ বিকাশে বড় ভূমিকা রাখে।
ডে-কেয়ার সেন্টারের পরিচর্যাকারীদের প্রশংসা করে জুবাইদা রহমান বলেন, তাঁদের আন্তরিক দায়িত্ব পালনের কারণে অসংখ্য কর্মজীবী মা নিশ্চিন্তে কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন করতে পারেন। একই সঙ্গে শিশুরাও নিরাপদ ও যত্নশীল পরিবেশে বেড়ে ওঠার সুযোগ পায়।
তিনি আরও বলেন, এই সেবাকর্মীরা শুধু শিশুদের পরিচর্যাই করছেন না, বরং নারীদের কর্মজীবনে অংশগ্রহণের সুযোগ বৃদ্ধিতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন।
অনুষ্ঠানে পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে ডে-কেয়ার চালুর যে উদ্যোগ নিয়েছিলেন, সেই ভাবনাকে আরও বিস্তৃত করার চেষ্টা চলছে। নিরাপদ পরিবেশে শিশুদের বেড়ে ওঠা নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে তারাই দেশের উন্নয়নে নেতৃত্ব দেবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সভাপতির বক্তব্যে এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, ডে-কেয়ার সুবিধা শুধু কর্মজীবী মায়ের জন্য নয়, বরং প্রতিটি কর্মজীবী পরিবারের প্রয়োজন। তবে এ ধরনের কেন্দ্র দ্রুত বাড়াতে হলে প্রশিক্ষিত জনবল তৈরি এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির বিকল্প নেই।
তিনি আরও জানান, ১৯৯২ সালে মাত্র ছয়টি দিবাযত্নকেন্দ্র দিয়ে যে কার্যক্রম শুরু হয়েছিল, বর্তমানে সেটিকে আরও বিস্তৃত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।