
দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থী ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনা না করায় দেশের ১১২টি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দিয়েছে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড (বিটিইবি)। নোটিশে প্রতিষ্ঠানগুলোকে আগামী ১৬ জুলাইয়ের মধ্যে লিখিতভাবে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে যে, কেন তাদের ভর্তি কার্যক্রম স্থগিত এবং পাঠদানের অনুমোদন বাতিল বা প্রত্যাহার করা হবে না।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই ২০২৬) বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
দীর্ঘদিন ভর্তি না হওয়ায় বোর্ডের নজরদারি
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বোর্ডের আওতাধীন এইচএসসি (বিএমটি) শিক্ষাক্রম পরিচালনাকারী যেসব বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দীর্ঘ সময় ধরে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়নি, সেসব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পর্যালোচনা করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বোর্ড জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে আগামী ২০২৭–২০২৮ শিক্ষাবর্ষ থেকে ভর্তি কার্যক্রম স্থগিত করার পাশাপাশি তাদের পাঠদানের অনুমোদন কেন বাতিল বা প্রত্যাহার করা হবে না, সে বিষয়ে যৌক্তিক ও গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জমা দিতে হবে।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হলে বিধি অনুযায়ী পরবর্তী প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
নীতিমালার আলোকে ব্যবস্থা
কারিগরি শিক্ষা বোর্ড জানায়, এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে ‘বেসরকারি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন, পাঠদান ও স্বীকৃতি প্রদান-সংক্রান্ত নীতিমালা, ২০২০’-এর বিধি ৫.৪ অনুযায়ী।
ওই বিধিতে বলা হয়েছে, কোনো প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সরকারের নির্ধারিত শর্তাবলি পূরণে ব্যর্থ হলে সরকারের অনুমোদনক্রমে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পাঠদানের অনুমতি বাতিল, স্থগিত বা প্রত্যাহার করতে পারবে।
যেসব বিষয় পর্যালোচনা করবে বোর্ড
নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন বহাল রাখার ক্ষেত্রে শুধু শিক্ষার্থী ভর্তি নয়, আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মূল্যায়ন করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে—
শিক্ষার্থী ভর্তি ও ফলাফলের ধারাবাহিকতা;
প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর উপস্থিতি;
যোগ্য শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়োগ;
কার্যকর ব্যবস্থাপনা কমিটি;
শ্রেণিকক্ষের আসবাবপত্র;
ব্যবহারিক শিক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও ল্যাব সুবিধা;
লাইব্রেরি ও শিক্ষাসামগ্রী;
পাঠদানের অনুমতি প্রদানের সময় আরোপিত বিশেষ শর্তাবলি;
সরকারের নির্ধারিত অন্যান্য প্রযোজ্য শর্ত পূরণ।
বোর্ডের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব শর্ত পূরণে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনার অনুমোদন বহাল রাখা সম্ভব হবে না।
শিক্ষার মান নিশ্চিত করতে উদ্যোগ
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দীর্ঘদিন শিক্ষার্থী ভর্তি না হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকারিতা, অবকাঠামো ও একাডেমিক সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হওয়ায় কারিগরি শিক্ষা বোর্ড এ উদ্যোগ নিয়েছে। এর মাধ্যমে অকার্যকর বা নীতিমালা পূরণে ব্যর্থ প্রতিষ্ঠানগুলোকে চিহ্নিত করে কারিগরি শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের স্বার্থ সুরক্ষার চেষ্টা করা হচ্ছে।
বোর্ড জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর লিখিত ব্যাখ্যা পর্যালোচনার পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। প্রয়োজন হলে বিধি অনুযায়ী ভর্তি কার্যক্রম স্থগিত, পাঠদানের অনুমোদন বাতিল বা প্রত্যাহারের মতো প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তির সঙ্গে কারণ দর্শানোর নোটিশপ্রাপ্ত ১১২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তালিকাও সংযুক্ত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা ও প্রমাণপত্র বোর্ডে দাখিল করতে বলা হয়েছে।