
বাংলাদেশকে একটি কার্যকর ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে গণভোটে জনগণের দেওয়া রায় বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব ও বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য আখতার হোসেন। তিনি বলেন, জনগণের মতামতের প্রতিফলন ঘটিয়ে রাষ্ট্রীয় সংস্কার বাস্তবায়ন না হলে গণতন্ত্রের ভিত্তি শক্তিশালী হবে না।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে আয়োজিত এক মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ দাবি জানান। মানববন্ধনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নিহত ব্যক্তিদের স্বজন এবং আহত আন্দোলনকারীরা অংশ নেন।
বক্তব্যে আখতার হোসেন অভিযোগ করেন, একটি মহল বিভিন্ন উপায়ে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক গুরুত্বকে খাটো করার চেষ্টা করছে।
তার ভাষ্য, “স্বৈরাচারের দোসরেরা নানা উপায়ে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করছে। সাংবাদিক, চিত্রনায়িকা ও মডেল পরিচয়ে এসে তারা জুলাইয়ের শহীদদের অপমান করছে এবং গণহত্যার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ নিচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, যারা জুলাই গণহত্যার ঘটনা অস্বীকার করতে চান, তারা দেশের জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করছেন। এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া এবং বিচার নিশ্চিত করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
আখতার হোসেন বলেন, গণভোটে জনগণ যে রায় দিয়েছেন, তা বাস্তবায়ন করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তার মতে, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য জনগণের সেই সিদ্ধান্তকে সম্মান জানানো জরুরি।
তিনি বলেন, দেশের রাজনৈতিক সংস্কার, জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থা এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণের জন্য গণভোটের রায় বাস্তবায়ন অপরিহার্য।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ। তিনি বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান না হলে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দেশে ফিরে ক্ষমতায় আসা সম্ভব হতো না।
তার অভিযোগ, ক্ষমতায় আসার পর সরকার জুলাই আন্দোলনের শহীদদের অবদান উপেক্ষা করেছে এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়নের বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি।
তিনি আরও বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নিহতদের হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত না হলে জনগণ নতুন করে আন্দোলনে নামবে।
মানববন্ধনে সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, জনগণের প্রত্যাশা উপেক্ষা করে সংসদ পরিচালনা করা হলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না।
তার ভাষ্য, সরকার যদি জনমতকে গুরুত্ব না দেয় এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়নে উদ্যোগ না নেয়, তাহলে জনগণ নতুন আন্দোলনের মাধ্যমে তাদের দাবি আদায় করবে।
তিনি বলেন, প্রয়োজন হলে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে আবারও জুলাইয়ের মতো গণআন্দোলন গড়ে উঠতে পারে।
মানববন্ধনে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, এবি পার্টির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল ওহাব মিনার, বাংলাদেশ লেবার পার্টির মহাসচিব খন্দকার মিরাজুল ইসলাম এবং জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য মোবারক হোসাইন।
বক্তারা রাষ্ট্রীয় সংস্কার, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নিহতদের হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান।
মানববন্ধনে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নিহত কয়েকজনের পরিবারের সদস্যরাও বক্তব্য দেন। তাদের মধ্যে ছিলেন শহীদ শেখ মেহেদী হাসান জুনায়েদের বাবা শেখ জামাল হাসান, শহীদ আবদুর রহমান জিসানের বাবা বাবুল সরদার, শহীদ শাহাদাত হোসেন শাওনের বাবা বাছির আলম, শহীদ মোহাম্মদ আদিলের বাবা আবুল কালাম, শহীদ সাব্বির হোসেনের মা মাকসুদা বেগম, শহীদ সাব্বির ইসলামের মা সাবিনা খাতুন এবং আহত জুলাই আন্দোলনের অংশগ্রহণকারী রুবেল চৌধুরী।
বক্তারা নিহতদের আত্মত্যাগের যথাযথ মূল্যায়ন, বিচার নিশ্চিত করা এবং আন্দোলনের ঘোষিত লক্ষ্য বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া বক্তারা বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের উদ্দেশ্য ছিল গণতন্ত্র, জবাবদিহি ও রাষ্ট্রীয় সংস্কার প্রতিষ্ঠা করা। তারা দাবি করেন, সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে গণভোটের রায় কার্যকর করা, আন্দোলনে নিহতদের হত্যার বিচার নিশ্চিত করা এবং জনগণের মতামতের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা প্রয়োজন।
বক্তারা সরকারের প্রতি দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান এবং রাষ্ট্রীয় সংস্কার বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি গণতান্ত্রিক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন।