
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলম বলেছেন, ভবিষ্যতের বাংলাদেশে কোনো ব্যক্তি বা দলকে এককভাবে ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হতে দেওয়া হবে না। তাঁর ভাষায়, অতীতে ব্যক্তিকেন্দ্রিক রাজনীতির যে সংস্কৃতি গড়ে উঠেছিল, তা আর ফিরে আসতে দেওয়া হবে না।
বুধবার (৮ জুলাই) বিকেলে টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলা সদরের বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এনসিপির পদযাত্রা শেষে আয়োজিত পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
বক্তব্যে সারজিস আলম বলেন, “আমরা আগামীর বাংলাদেশে আর নতুন করে কাউকে শেখ হাসিনা হতে দেব না। শেখ হাসিনার আমলে একটি রোগ ছিল—সবাই খারাপ, কিন্তু শেখ হাসিনা ভালো। আমরা ভবিষ্যতে এই ধরনের রাজনৈতিক সংস্কৃতি দেখতে চাই না। বিএনপির অনেকেই খারাপ; কিন্তু তারেক রহমান তো ভালো—এমন ধারণাও গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।”
পথসভায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে উদ্দেশ করে সারজিস আলম বলেন, যদি তিনি ভবিষ্যতে প্রধানমন্ত্রী হন, তাহলে দলীয় নেতা-কর্মীদের কর্মকাণ্ডের দায়ও তাঁকেই বহন করতে হবে।
তিনি বলেন, “আপনি প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। আপনার প্রতিটি জেলা, উপজেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা যদি চাঁদাবাজি করে, সিন্ডিকেট পরিচালনা করে, মাদক ব্যবসায় জড়ায় কিংবা নিরীহ মানুষের ওপর নির্যাতন চালায়, তাহলে সেই দায়ও আপনাকেই নিতে হবে। এ দায় থেকে কোনো রাজনৈতিক নেতৃত্ব নিজেকে আলাদা রাখতে পারে না।”
সারজিস আলম জনগণের উদ্দেশে বলেন, কোনো দল বা নির্বাচনী প্রতীকের প্রতি অন্ধ সমর্থন না দিয়ে প্রার্থী ও তাঁর কর্মকাণ্ড বিবেচনা করে ভোট দেওয়া উচিত।
তিনি বলেন, যারা চাঁদাবাজি, জমি দখল, লুটপাট কিংবা ক্ষমতার অপব্যবহারের সঙ্গে জড়িত নন, জনগণের উচিত তাঁদের পাশে দাঁড়ানো।
তিনি আরও বলেন, “আপনাদের বিবেক কোনো রাজনৈতিক দলের কাছে বিক্রি করবেন না, কোনো প্রতীকের কাছেও বন্ধক রাখবেন না। মনে রাখতে হবে, এই দেশের সরকার কে পরিচালনা করবে, সেই সিদ্ধান্ত জনগণের ভোটেই নির্ধারিত হয়। অন্ধ আনুগত্যের রাজনীতি চলতে থাকলে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন কখনোই সম্ভব হবে না।”
পথসভায় সারজিস আলম আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদেরও উদ্দেশ করে বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, অতীতে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে পুলিশসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ব্যবহার করা হয়েছে বলে তাঁর দলের অভিযোগ রয়েছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ পুলিশ এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী প্রতিষ্ঠানের সদস্যদের পেশাদারিত্ব, নিরপেক্ষতা ও সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে নিজেদের মর্যাদা ও জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার করতে হবে।
তাঁর ভাষায়, “প্রতিটি রাজনৈতিক দলই ক্ষমতায় থাকার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ব্যবহার করার চেষ্টা করতে পারে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা যদি পেশাদারিত্ব ও বিবেকবোধ বজায় রাখেন, তাহলে তাঁরা নিজেদের দায়িত্ব সম্মানের সঙ্গে পালন করতে পারবেন।”
পথসভায় এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য আতিকুর রহমান মুজাহিদ, যুগ্ম আহ্বায়ক সরোয়ার তুষার, ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল্লাহ হায়দার, টাঙ্গাইল জেলা শাখার আহ্বায়ক কামরুজ্জামান শাওন এবং সদস্যসচিব মাসুদুর রহমানসহ দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা বক্তব্য দেন।
অনুষ্ঠান থেকে আগামী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে কালিহাতী উপজেলা চেয়ারম্যান পদে এনসিপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে মেহেদী হাসানকে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়।
কালিহাতীর কর্মসূচি শেষে এনসিপির নেতারা টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলা সদরে পদযাত্রা করেন। পরে সেখানে বাসস্ট্যান্ড এলাকায় আরেকটি পথসভায় অংশ নিয়ে দলের রাজনৈতিক কর্মসূচি ও সাংগঠনিক কার্যক্রম নিয়ে বক্তব্য দেন।