প্রিন্ট এর তারিখঃ Oct 11, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jul 13, 2026 ইং
সংবিধানে ফিরলো গণভোট ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা

বহুল আলোচিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলসহ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে আনা কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায় বহাল রেখেছেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত আপিল বিভাগ। আজ বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকাল সাড়ে ৯টায় প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে গঠিত চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ রিটকারীদের আপিল খারিজ করে এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন। এর ফলে বাংলাদেশের সংবিধানে আবারও গণভোট এবং ত্রৈমাসিক তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরে এসেছে বলে নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা।
আপিল বিভাগের রায়, আইনি ধারাগুলোর বিশ্লেষণ এবং রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক প্রভাবের বিস্তারিত বিবরণ নিচে তুলে ধরা হলো:
আপিল বেঞ্চের রায় ও শুনানির প্রেক্ষাপট
হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে রিটকারী সুজনের সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারের পক্ষে করা লিভ টু আপিল এবং পরবর্তী শুনানি শেষে সর্বোচ্চ আদালত এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দিলেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে উপস্থিত ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। অন্যদিকে রিটের পক্ষে ড. শরীফ ভূঁইয়া এবং জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির মামলা পরিচালনা করেন। আইনজীবীরা এই রায়কে ‘ঐতিহাসিক’ ও ‘জনগণের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার বিজয়’ বলে অভিহিত করেছেন। এর আগে গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর হাইকোর্ট বেঞ্চ পঞ্চদশ সংশোধনীর নির্দিষ্ট কিছু ধারাকে অবৈধ ঘোষণা করেছিলেন।
মৌলিক কাঠামো ধ্বংসের দায়ে অনুচ্ছেদ বাতিল
হাইকোর্টের রায়ের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, গণতন্ত্র হচ্ছে আমাদের সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর অবিচ্ছেদ্য অংশ। দলীয় সরকারের অধীনে বিগত তিনটি সংসদ নির্বাচনে জনগণের ইচ্ছার কোনো প্রতিফলন ঘটেনি এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের আত্মবিশ্বাস জনগণের মধ্যে জন্ম নেয়নি, যার ফলশ্রুতিতে জুলাই গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছে। এই বাস্তবতায় আদালত পঞ্চদশ সংশোধনী আইনের বেশ কয়েকটি ধারা বাতিল করেছেন:
তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিলুপ্তি: তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলুপ্তি সংক্রান্ত পঞ্চদশ সংশোধনীর ২০ ও ২১ অনুচ্ছেদকে সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ও বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।
মৌলিক বিধান পরিবর্তন: পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে যুক্ত হওয়া ৭ক (সংবিধান বাতিল ও স্থগিতকরণের অপরাধ) এবং ৭খ (মৌলিক বিধানাবলি সংশোধন অযোগ্যকরণ) অনুচ্ছেদ বাতিল করা হয়েছে।
অধিকার বলবৎকরণ: মৌলিক অধিকার বলবৎকরণ সংক্রান্ত ৪৪(২) অনুচ্ছেদটিও সংবিধান পরিপন্থী হওয়ায় বাতিল করা হয়েছে।
গণভোটের পুনর্বহাল ও পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া
রায়ে সুনির্দিষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, পঞ্চদশ সংশোধনীর ৪৭ ধারার মাধ্যমে সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদ থেকে ‘গণভোটের’ যে বিধানটি বিলুপ্ত করা হয়েছিল, তা সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ। ফলে দ্বাদশ সংশোধনীর ১৪২ অনুচ্ছেদের গণভোটের বিধানটি সংবিধানে পুনরায় বহাল হলো। তবে আদালত স্পষ্ট করেছেন যে, ২০১১ সালের ৩০ জুন পাস হওয়া পঞ্চদশ সংশোধনী আইনটি পুরোটা বাতিল করা হচ্ছে না। জাতির পিতার স্বীকৃতি এবং ২৬ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণের মতো সংবেদনশীল ও জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো অক্ষুণ্ন রাখা হয়েছে। এই বিষয়গুলো বাদে বাকি অনুচ্ছেদগুলোর বিষয়ে আগামী জাতীয় সংসদ আইন অনুসারে জনগণের মতামত নিয়ে প্রয়োজনীয় সংশোধন, পরিমার্জন ও পরিবর্তন করতে পারবে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বার্তা এক্সপ্রেস ২৪