
আগামী ১৩ জুলাই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম বরিশাল সফরকে ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে। সফর সফল করতে শুক্রবার দিনভর বরিশাল ও গৌরনদী–আগৈলঝাড়া এলাকায় একাধিক প্রস্তুতি সভা, প্রশাসনিক বৈঠক ও কর্মসূচিতে অংশ নেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। এ সময় সফরের সার্বিক প্রস্তুতি, নিরাপত্তা ও সাংগঠনিক কার্যক্রম নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়।
শুক্রবার সন্ধ্যায় গৌরনদী উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে গৌরনদী–আগৈলঝাড়া উপজেলা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের নিয়ে অনুষ্ঠিত প্রস্তুতি সভায় এক পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মুঠোফোনে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেন। ফোনালাপে তিনি উপস্থিত নেতাকর্মীদের খোঁজখবর নেন এবং তাঁদের শুভেচ্ছা জানান। প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছাবার্তা পেয়ে সভায় উপস্থিত নেতাকর্মীরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।
‘বরিশালবাসীর জন্য গৌরবের মুহূর্ত’
প্রস্তুতি সভায় তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের এটি প্রথম বরিশাল সফর। এ সফর বরিশালবাসীর জন্য একটি আনন্দ ও গৌরবের মুহূর্ত।
তিনি বলেন, বিএনপির রাজনীতি সবসময় জনগণের কল্যাণ ও উন্নয়নকেন্দ্রিক। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার দেশের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং গণমুখী উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি দলের নেতাকর্মীদের জনগণের সেবাকে রাজনীতির মূল লক্ষ্য হিসেবে ধারণ করার আহ্বান জানান।
জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক দর্শনের প্রসঙ্গ
সভায় তথ্যমন্ত্রী বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনীতির পরিবর্তে উৎপাদনমুখী, জনকল্যাণভিত্তিক এবং উন্নয়নমুখী রাজনৈতিক ধারা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, কৃষি উন্নয়ন, খাল খনন, পরিবেশ সংরক্ষণ, বৃক্ষরোপণ এবং মানুষের জীবন-জীবিকার উন্নয়নকে তিনি রাজনৈতিক কর্মসূচির গুরুত্বপূর্ণ অংশে পরিণত করেছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও সামাজিক উন্নয়ন, গণতান্ত্রিক কর্মকাণ্ড এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্পৃক্ততার মাধ্যমে একটি আধুনিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে কাজ করে যাচ্ছেন।
দিনভর প্রস্তুতি সভা ও প্রশাসনিক বৈঠক
প্রধানমন্ত্রীর সফরকে সামনে রেখে শুক্রবার সকাল থেকে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী বরিশাল বিভাগ ও তাঁর নির্বাচনী এলাকা গৌরনদী–আগৈলঝাড়ায় বিভিন্ন প্রস্তুতিমূলক কর্মসূচিতে অংশ নেন।
এ সময় তিনি জেলা প্রশাসন, বিভাগীয় প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন। এসব বৈঠকে সফরের নিরাপত্তা, যানবাহন চলাচল, অনুষ্ঠানস্থলের প্রস্তুতি, জনসমাগম ব্যবস্থাপনা এবং সার্বিক আয়োজন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন
সকালে গৌরনদী উপজেলার বাটাজোর ইউনিয়নের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান পরিদর্শন করেন তথ্যমন্ত্রী। সফরকালে যেসব স্থানে প্রধানমন্ত্রী অংশ নেবেন, সেসব স্থানের প্রস্তুতি সরেজমিনে ঘুরে দেখেন তিনি।
স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করে বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজ নেন এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।
প্রধানমন্ত্রী সফরকালে যে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেবেন, সেই স্থানও পরিদর্শন করেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী।
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ
দিনের অন্য কর্মসূচির অংশ হিসেবে তথ্যমন্ত্রী বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত মাসব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন।
সেখানে তিনি পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা এবং দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির গুরুত্ব তুলে ধরেন।
প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচি
প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে প্রকাশিত সফরসূচি অনুযায়ী, আগামী সোমবার (১৩ জুলাই) সকাল ৬টা ৩০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সড়কপথে ঢাকা থেকে বরিশালের উদ্দেশে রওনা হবেন।
সফরকালে তিনি—
গৌরনদীর বাটাজোরে একটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেবেন।
বরিশাল নগরের ত্রিশ গোডাউন বধ্যভূমি সংলগ্ন এলাকায় আরেকটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে যোগ দেবেন।
দুপুরে বরিশাল সার্কিট হাউসে সংক্ষিপ্ত বিরতি নেবেন।
এরপর বিকেল ৩টায় বরিশাল জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে বিএনপির সাংগঠনিক সভায় অংশ নেবেন।
নির্ধারিত কর্মসূচি শেষে একই দিন বিকেলে তাঁর ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর প্রথম বরিশাল সফরকে ঘিরে ইতোমধ্যে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। সফরকে নির্বিঘ্ন ও সফল করতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ সমন্বিতভাবে কাজ করছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।