
প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জীবন, সম্পদ ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে সরকারকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব এবং কোনো ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার যেন প্রয়োজনীয় সহায়তা থেকে বঞ্চিত না হয়, সে বিষয়ে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
শুক্রবার (১০ জুলাই) চট্টগ্রামের বাঁশখালী ও সাতকানিয়া উপজেলার বন্যাকবলিত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি দুর্গত মানুষের সঙ্গে কথা বলেন, তাঁদের দুর্ভোগের খোঁজ নেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে শুকনা খাবার ও আর্থিক সহায়তা বিতরণ করেন।
‘ত্রাণের পাশাপাশি দ্রুত পুনর্বাসন জরুরি’
পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সাম্প্রতিক বন্যায় বহু মানুষ ঘরবাড়ি, ফসল এবং জীবিকার প্রধান অবলম্বন হারিয়ে চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
তিনি বলেন, উদ্ধার কার্যক্রম আরও জোরদার করার পাশাপাশি পর্যাপ্ত ত্রাণ বিতরণ, চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দ্রুত পুনর্বাসনের জন্য সরকারের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
জামায়াত আমিরের ভাষায়,
“প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব। ক্ষতিগ্রস্ত প্রত্যেক মানুষ যেন তাদের ন্যায্য অধিকার ও প্রয়োজনীয় সহায়তা পায়, সে বিষয়ে সরকারকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।”
‘মানুষের দুর্দিনে পাশে দাঁড়ানোই রাজনীতির বড় পরিচয়’
দুর্যোগকালে রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকার প্রসঙ্গ তুলে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের সংকটের সময় তাঁদের পাশে দাঁড়ানোই রাজনীতির সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।
তিনি বলেন,
“মানুষের দুর্দিনে রাজনীতির সবচেয়ে বড় পরিচয় হলো জনগণের পাশে দাঁড়ানো। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী অতীতের মতো এবারও বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে থাকবে, ইনশা আল্লাহ।”
তিনি জানান, দলীয় উদ্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ত্রাণ ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা
এর আগে শুক্রবার সকাল ৯টায় চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে দলীয় নেতাকর্মীরা তাঁকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান।
বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জামায়াত আমির বলেন, দলের সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে থাকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে।
তিনি বলেন, বিশেষ করে বন্যায় নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের কাছে পৌঁছে তাঁদের সহায়তা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ডা. শফিকুর রহমান জানান, বন্যাকবলিত এলাকায় ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য জামায়াতের কেন্দ্রীয়, জেলা ও স্থানীয় পর্যায়ের সব সাংগঠনিক ইউনিটকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং কেন্দ্রীয়ভাবে পুরো কার্যক্রম সমন্বয় করা হচ্ছে।
দুর্গত এলাকায় ত্রাণ বিতরণ
চট্টগ্রামের বাঁশখালী ও সাতকানিয়ার বিভিন্ন বন্যাকবলিত এলাকা ঘুরে দেখেন জামায়াত আমির। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে খোঁজ নেন এবং বিভিন্ন পরিবারের মধ্যে শুকনা খাবার, জরুরি ত্রাণসামগ্রী ও আর্থিক সহায়তা বিতরণ করেন।
পরিদর্শনের সময় স্থানীয় নেতাকর্মীরা বন্যার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি তাঁর সামনে তুলে ধরেন।
জলাবদ্ধতা ও পাহাড়ধসের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাও পরিদর্শন
বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শনের পাশাপাশি ডা. শফিকুর রহমান চট্টগ্রাম মহানগরের জলাবদ্ধতা ও পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন এলাকাও পরিদর্শন করেন।
সেখানে তিনি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের খোঁজখবর নেন এবং তাঁদের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন।
সফরে যাঁরা সঙ্গে ছিলেন
এ সময় জামায়াতের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতারা তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন দলের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ শাহাজাহান, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী, চট্টগ্রাম মহানগর আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরার সদস্য মুহাম্মদ জাফর সাদেক, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আমির মুহাম্মদ আনোয়ারুল আলম চৌধুরী, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আমির আলাউদ্দিন সিকদার, চট্টগ্রাম মহানগর সেক্রেটারি মুহাম্মদ নুরুল আমিন, চট্টগ্রাম-১৬ আসনের সংসদ সদস্য জহিরুল ইসলাম, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক এস এম ফরহাদ, চট্টগ্রাম মহানগরের সহকারী সেক্রেটারি ফয়সাল মুহাম্মদ ইউনুস এবং সাংগঠনিক সম্পাদক শামসুজ্জামান হেলালীসহ অন্য নেতারা।
দুর্যোগকবলিত এলাকায় পরিদর্শন ও ত্রাণ বিতরণ শেষে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসনে সরকার, রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন এবং বিত্তবান ব্যক্তিদের সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান জামায়াতে ইসলামীর আমির।