
ঢাকা থেকে ভারতের চেন্নাইগামী ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে শীতাতপনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা (এসি) ঠিকমতো কাজ না করায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা। বিশেষ করে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে ভ্রমণ করা রোগী ও তাঁদের স্বজনদের দুর্ভোগ ছিল সবচেয়ে বেশি। যাত্রীদের অভিযোগ, পুরো যাত্রাপথজুড়ে কেবিনে গরম ও গুমোট পরিবেশ বিরাজ করায় অনেকেই কাগজ বা লিফলেট দিয়ে নিজেকে বাতাস করতে বাধ্য হন।
জানা গেছে, বোয়িং ৭৩৭-৮০০ উড়োজাহাজের বিএস-২০৫ ফ্লাইটটি রোববার সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে ছাড়ার কথা থাকলেও দীর্ঘ বিলম্বের পর সন্ধ্যা ৬টা ১৬ মিনিটে ঢাকা ত্যাগ করে। প্রায় ১৮৮ জন যাত্রী নিয়ে ফ্লাইটটি স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ৮টার দিকে চেন্নাইয়ে পৌঁছায়।
যাত্রীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিকেলের দিকে উড়োজাহাজে ওঠার পর থেকেই কেবিনের ভেতর অতিরিক্ত গরম অনুভূত হচ্ছিল। পরে জানা যায়, এসিতে কারিগরি ত্রুটি রয়েছে এবং সেটি মেরামতের চেষ্টা চলছে। তবে ফ্লাইট ছাড়ার আগ পর্যন্ত সমস্যার পুরোপুরি সমাধান হয়নি।
চেন্নাইগামী এক যাত্রী জানান, তাঁর হাঁপানিতে আক্রান্ত বোনকে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাচ্ছিলেন। কেবিনের গরম পরিবেশে তাঁর শ্বাসকষ্ট বেড়ে গেলে বিমানকর্মীরা অক্সিজেন সরবরাহ করেন। একই ধরনের শারীরিক অস্বস্তিতে আরও কয়েকজন যাত্রীও পড়েন বলে তিনি দাবি করেন।
আরেক যাত্রী বলেন, ফ্লাইটে থাকা অধিকাংশ মানুষ ছিলেন চিকিৎসাপ্রার্থী বা তাঁদের স্বজন। এসি ঠিকমতো না চলায় অনেকেই কাগজ, টিকিট কিংবা লিফলেট দিয়ে বাতাস করে কিছুটা স্বস্তি পাওয়ার চেষ্টা করেন। এমন পরিস্থিতি একটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে অত্যন্ত অস্বস্তিকর ও উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিভিন্ন কারণে ফ্লাইটটি বিলম্বিত হয়েছিল। পাশাপাশি তারা স্বীকার করেছে, উড়োজাহাজের শীতাতপনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা সচল থাকলেও তা পূর্ণ সক্ষমতায় কাজ করছিল না।
তবে যাত্রীদের প্রশ্ন, এসিতে সমস্যা থাকার বিষয়টি আগে থেকেই জানা থাকলে কেন বিকল্প উড়োজাহাজের ব্যবস্থা করা হয়নি কিংবা যাত্রীদের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্যের কথা বিবেচনা করে ফ্লাইটটি সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়নি। এ ঘটনায় বিমান সংস্থার সিদ্ধান্ত ও সেবার মান নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীরা।