প্রিন্ট এর তারিখঃ Jul 15, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jul 15, 2026 ইং
হরমুজ প্রণালি বন্ধের হুঁশিয়ারি দিল আইআরজিসি

যুক্তরাষ্ট্রের সমস্ত সামরিক তৎপরতা ও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি অবরুদ্ধ রাখা হবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে ইরানের এলিট সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। তেহরানের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, আন্তর্জাতিক এই নৌপথের ওপর তাদের কঠোর নিয়ন্ত্রণ ও সামরিক নজরদারি বজায় থাকবে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার বরাত দিয়ে এই সামরিক উত্তেজনার তথ্য জানা গেছে।
মধ্যপ্রাচ্যের এই নৌ অবরোধ এবং ইরান-আমেরিকা সাম্প্রতিক সামরিক দ্বন্দ্বের বিস্তারিত বিবরণ নিচে তুলে ধরা হলো:
মার্কিন বিমান হামলা ও আইআরজিসির অভিযোগ
আইআরজিসি তাদের আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সাম্প্রতিক বিমান আক্রমণের কঠোর সমালোচনা করেছে। তেহরানের পক্ষ থেকে অভিযোগ আনা হয়েছে যে, ওয়াশিংটন নিজেদের যুদ্ধক্ষেত্রের পরাজয় এবং কৌশলগত অক্ষমতা আড়াল করার জন্য একটি অবাস্তব অজুহাত তৈরি করেছে। মার্কিন প্রশাসন মূলত আইন অমান্যকারী বা বেআইনি জাহাজে আঘাত হানার মিথ্যা দাবি তুলে ইরানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটির ওপর বিমান হামলা চালিয়েছে, যা আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
নৌ অবরোধ ও কৌশলগত অবস্থান
বিবৃতিতে ইরানি এলিট ফোর্সটি দাবি করেছে যে, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের দেওয়া এই কঠোর নৌ অবরোধ লঙ্ঘন করার মতো সাহস এখন পর্যন্ত কোনো আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ দেখাতে পারেনি। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের কোনো যুদ্ধজাহাজ বা তাদের নেতৃত্বাধীন পশ্চিমা মিত্রশক্তির সঙ্গে যুক্ত হয়েও কেউ এই জলপথ পাড়ি দেওয়ার ধৃষ্টতা দেখায়নি। আইআরজিসি অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জানিয়েছে যে, যেহেতু কোনো পক্ষ এই নিষেধাজ্ঞা ভাঙার চেষ্টা করেনি, তাই স্বাভাবিকভাবেই সেখানে কোনো নতুন জাহাজ বা লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার মতো সামরিক ঘটনা ঘটেনি।
বৈশ্বিক অর্থনীতিতে হরমুজ সংকটের প্রভাব
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, পারস্য উপসাগরের প্রবেশদ্বারে অবস্থিত হরমুজ প্রণালিটি বিশ্বের অন্যতম প্রধান জ্বালানি সরবরাহ রুট। বিশ্ববাজারে সরবরাহকৃত মোট খনিজ তেলের একটি বিশাল অংশ এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে আইআরজিসির এই দীর্ঘমেয়াদি অবরোধের হুঁশিয়ারি আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম আরও বাড়িয়ে দিতে পারে এবং বৈশ্বিক সরবরাহ চেইনকে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কী ভূমিকা নেয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বার্তা এক্সপ্রেস