
ঢাকার শাহবাগে ‘ধর্ষণ ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ’ প্ল্যাটফর্মের আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় বামপন্থী ছাত্রসংগঠনের ১২ জন নেতা-কর্মীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে, পাশাপাশি অজ্ঞাত আরও ৭০-৮০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
আজ (বুধবার) রমনা থানায় পুলিশের পক্ষ থেকে এ মামলা করা হয়। রমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম ফারুক জানান, পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। মামলাটি দায়ের করেছেন রমনা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবুল খায়ের।
ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে সম্প্রতি ‘ধর্ষণ ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ’ নামে একটি প্ল্যাটফর্ম গঠিত হয়। গতকাল মঙ্গলবার এই প্ল্যাটফর্মের ব্যানারে শিক্ষার্থী ও নাগরিকরা ধর্ষকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে গণপদযাত্রা কর্মসূচি পালন করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্য থেকে শুরু হওয়া পদযাত্রা শাহবাগ হয়ে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে পৌঁছালে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। একপর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষ হয় এবং পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
পুলিশের এজাহারে বলা হয়েছে, বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে পুলিশের ওপর হামলা চালান এবং লাঠিসোঁটা নিয়ে আক্রমণ করেন। এতে রমনা জোনের সহকারী কমিশনার আবদুল্লাহ আল মামুনসহ বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন।
বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেছেন, তারা শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালন করছিলেন, কিন্তু পুলিশ লাঠিচার্জ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা গেছে, উভয় পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তি ও মারধরের ঘটনা ঘটেছে।
ঘটনার প্রেক্ষিতে পুলিশ সদর দপ্তর এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বিক্ষোভকারীরা পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে সামনে এগোনোর চেষ্টা করলে সংঘর্ষ বাধে। পুলিশের দাবি, আন্দোলনকারীরা প্রথমে হামলা চালান এবং পুলিশ আত্মরক্ষার্থে প্রতিহত করেছে।
পুলিশ সদর দপ্তর আরও জানায়, গণমাধ্যমে প্রকাশিত কিছু খণ্ডিত সংবাদ ও ছবি প্রকৃত সত্য আড়াল করছে, যা দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তারা সঠিক তথ্য উপস্থাপনের আহ্বান জানিয়েছেন।