
বৈরী আবহাওয়া ও অনিবার্য কারণে চলমান এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারা শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সুযোগ ঘোষণা করেছে সরকার। শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছেন, যেসব পরীক্ষার্থী প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে কোনো বিষয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারেননি, তারা পরবর্তীতে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের স্থগিত হওয়া একই বিষয়ের অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পুনরায় পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন।
বুধবার (১৬ জুলাই) জাতীয় সংসদে ৩০০ বিধিতে দেওয়া এক বিবৃতিতে শিক্ষামন্ত্রী এ ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে তিনি জানান, চলমান এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার প্রথম দিনে সারা দেশে ১১ হাজার ৭২৯ জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল।
সারা দেশে ১২ লাখ ৭০ হাজারের বেশি পরীক্ষার্থী
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় দেশের ২ হাজার ৬৯৭টি পরীক্ষা কেন্দ্রে মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করছে।
তবে সাম্প্রতিক ভারী বর্ষণ, জলাবদ্ধতা ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে পরীক্ষা গ্রহণে কিছু এলাকায় জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে।
বিশেষ করে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন পাঁচ জেলা—চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবান—এ নির্ধারিত পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।
অন্যান্য জেলাতেও পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি অনেক শিক্ষার্থী
শিক্ষামন্ত্রী জানান, শুধু চট্টগ্রাম বোর্ডই নয়, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলার কিছু পরীক্ষার্থীও বৈরী আবহাওয়া, জলাবদ্ধতা এবং অন্যান্য অনিবার্য কারণে নির্ধারিত দিনে পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছাতে পারেননি।
এসব শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সরকার বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
কীভাবে আবার পরীক্ষা দিতে পারবেন
এহছানুল হক মিলন বলেন, যেসব পরীক্ষার্থী প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা অনিবার্য কারণে কোনো বিষয়ে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি, তারা চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের স্থগিত হওয়া সংশ্লিষ্ট বিষয়ের অভিন্ন প্রশ্নপত্রে শিক্ষা মন্ত্রণালয় নির্ধারিত একই তারিখ ও সময়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবেন।
তিনি বলেন, এইচএসসি পরীক্ষা একজন শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ শিক্ষা ও কর্মজীবনের গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। তাই কোনো শিক্ষার্থী যেন কেবল প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে পরীক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হয়, সেজন্য সরকার এই বিশেষ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
প্রশ্নপত্রের ভুলে কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হবেন না
সংসদে দেওয়া বিবৃতিতে শিক্ষামন্ত্রী পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের প্রশ্নপত্রে ত্রুটির বিষয়েও কথা বলেন।
তিনি জানান, প্রশ্নপত্র প্রণয়নে ভুলের দায়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ইতোমধ্যে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
একই সঙ্গে পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের ৬ ও ৭ নম্বর প্রশ্নে যে ভুল হয়েছে, তার কারণে কোনো পরীক্ষার্থী ক্ষতির মুখে পড়বে না।
সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, ওই দুটি প্রশ্নের জন্য সব পরীক্ষার্থীকে পূর্ণ নম্বর দেওয়া হবে।
শিক্ষার্থীদের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সরকার পরীক্ষা পরিচালনায় সর্বোচ্চ দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিচ্ছে এবং প্রতিটি সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীদের স্বার্থ বিবেচনা করেই নেওয়া হচ্ছে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, আবহাওয়া পরিস্থিতির উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে বাকি পরীক্ষাগুলোও নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে যেসব শিক্ষার্থী অনিবার্য কারণে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি, তাদের জন্য ঘোষিত বিশেষ সুযোগের মাধ্যমে কোনো শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন ব্যাহত হবে না।